বিএনপি জাতির সঙ্গে সুস্পষ্ট প্রতারণা করে চলছে: জামায়াত আমির
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ০৪:১২ পিএম, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ শনিবার
পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিবাদের রাস্তা ধরে বিএনপি হাঁটা শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, বিএনপির সঙ্গে আমরা একসময় একসঙ্গে মজলুম ছিলাম। আমি বিনয়ের সঙ্গে বলতে চাই—আপনারা হাজার চেষ্টা করলেও ওই আওয়ামী লীগ হতে পারবেন না; বড়জোর দুর্বল আওয়ামী লীগ হতে পারবেন।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রাষ্ট্রের মৌলিক যে সমস্ত জায়গায় পরিবর্তন দরকার, সুশাসন কায়েমের জন্য, সত্যিকারের স্বাধীনতার স্বাদ জনগণকে দেওয়ার জন্য, প্রত্যেকটি বিষয়ে বিএনপি বিরোধিতা করে চলেছে। এটি জাতির সঙ্গে সুস্পষ্ট প্রতারণা।
তিনি বলেন, বিএনপি তাদের ইশতেহারে দেওয়া ৩১ দফা কর্মসূচিরই বিরোধিতা করছে। আমার মনে হয়, তারা যে বিরোধিতা করছে এই জ্ঞানটাও বোধহয় তারা হারিয়ে ফেলেছে।
জামায়াতে আমির বলেন, ভুলে যাবেন না, এই জুলাই না হলে, এই মায়েদের, এই বাবাদের, এই ভাইদের, এই বোনদের সন্তান, স্বামী, ভাই, বোন জীবন না দিলে আজকে আপনারা ক্ষমতা এনজয় করতে পারতেন না। ক্ষমতায় আসার আগেই আপনারা ভুলে গিয়েছিলেন; শহীদ পরিবার যখন বুকে কষ্ট নিয়ে কান্নাকাটি করছিল, তখন তাদের কাছে আপনাদের ছুটে যাওয়ার সময় ছিল না।
তিনি বলেন, আপনারা ৫ আগস্টের পর ৭ আগস্ট পার্টি অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে বললেন আমাদের নির্বাচন দাও, আমরা ক্ষমতায় বসতে চাই। শহীদ পরিবারের দুঃখ আপনাদের অন্তরকে স্পর্শ করেনি। আহত বন্ধুদের নিয়ে আপনাদের কোনো কর্মসূচি, ভাবনা জাতি দেখেনি। কিন্তু এই বিপ্লবের বেনিফিশিয়ারি আপনারা।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যারা বিদেশে ছিলেন, স্বদেশে আসার সুযোগ পেয়েছেন। এই বিপ্লব না হলে আপনারা বোধহয় কল্পনাও করতেন না দেশে ফিরে আসার। আমার জেলের সহকর্মী পার্টনার আল্লামা মামুনুল হক বলেছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা জেলে ছিলেন, একসঙ্গেই ছিলাম। তারা হতাশা ব্যক্ত করে বলতেন ৪১-এর আগে হাসিনা এবং আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে সরানো সম্ভব নয়। ২৪-এর অভ্যুত্থানের পর যখন বঙ্গভবনে শপথ নিলেন উপদেষ্টারা বিএনপির বাংলাদেশে উপস্থিত সর্বোচ্চ পর্যায়ের একজন নেতা আর আমি পাশাপাশি ছিলাম। উনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, এটা কী হলো? আমি কিছু না বলে আসমানের দিকে আমার এই আঙুলটা উঠালাম। তিনি বললেন আসলেই এটা খোদার দান। এটাই মিরাকল। সেই খোদার দান ভুলে গেলেন। এখন কেউ কেউ দাবি করে অমুক আন্দোলনের মাস্টার মাইন্ড। অমুকের নেতৃত্বে আন্দোলন সফল হয়েছে। এগুলো সব ভুয়া।
তিনি বলেন, আমরা কারো ন্যায্য অবদানকে কখনো অস্বীকার করি না। আন্দোলন আমরা সবাই করেছি। কিন্তু আমরা তীরে ফিরতে পারি নাই। আমাদের তরি সমুদ্রে ভাসমান ছিল। জুলাই আন্দোলনের নায়কেরা এই তরি নিয়ে ঘাটে ভিড়েছে। জাতিকে মুক্তির পথ দেখিয়েছে। তাদের সম্মান করতে শিখুন, ভালোবাসতে শিখুন। তাদের নিয়ে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করবেন না।
জামায়াতে আমির আরও বলেন, সংসদে আমরা প্রথম দিনেই দাবি তুলেছি সংস্কার পরিষদ গঠনের। আমরা শপথ নিয়েছি, তারা শপথ নেন নাই। জাতির সঙ্গে দেওয়া ওয়াদা ভঙ্গ করে তারা প্রতারণা করেছেন। এরপরে যখন জাতিকে প্রতারিত করা হয়েছে, আমরা নোটিশ দিয়ে আলোচনার ব্যবস্থা করেছি। তারা তার বিরোধিতা করেছে। যে আইনগুলো সংশোধন না হলে অধ্যাদেশ বাস্তবায়ন না হলে, ফ্যাসিবাদী শাসনের পরিবর্তন হবে না। সবগুলো আগের স্বৈরাচারী সরকারের মতো রাখার পক্ষে তারা অবস্থান নিয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা বিএনপিকে পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছি, সম্প্রতি কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন জায়গায়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, এমনকি এখান থেকে মাত্র কয়েক গজ দূরে মানুষের আইনের আশ্রয় থানার ভেতরে ঢুকে দুঃখজনকভাবে ডাকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপরে হামলা করা হয়েছে। বার্তা পরিষ্কার, যেদিন তারা গণভোটের রায় অস্বীকার করেছেন, আমি বলেছিলাম বিএনপি আজ থেকে ফ্যাসিবাদের পথে যাত্রা শুরু করল। এটা ফ্যাসিবাদ।
জামায়াত আমির বলেন, এই বাংলাদেশ আমরা চাই না। আমরা পরিবর্তনের বাংলাদেশ চাই। যেই বাংলাদেশে শিশু যখন ঘর থেকে বের হবে, কিশোর যখন বের হবে, যুবক যুবতীরা বের হবে, আমার মা বোনেরা বের হবে, তখন কারো বুক কাঁপবে না। নিরাপত্তার সঙ্গে বের হবে। আমরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আমাদের সন্তানদের হাতে দা কুড়াল দেখতে চাই না। আমরা খাতা-কলম দেখতে চাই।
এএইচ
