ঢাকা, সোমবার   ২৭ এপ্রিল ২০২৬,   বৈশাখ ১৩ ১৪৩৩

বাজেটে উদ্যোক্তাবান্ধব নীতিমালা প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৮:৫০ পিএম, ২৬ এপ্রিল ২০২৬ রবিবার

আসন্ন জাতীয় বাজেটে উদ্যোক্তাবান্ধব নীতিমালা প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ।

তিনি বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বাস্তবমুখী, সময়োপযোগী ও ব্যবসাবান্ধব বাজেট প্রণয়ন অত্যন্ত জরুরি।

রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২০২৮ : ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে এসব দাবি উঠে আসে। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্টস অ্যান্ড বিজনেসমেন ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সময়োপযোগী ও ব্যবসাবান্ধব বাজেট প্রণয়ন জরুরি। তিনি কর ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি এবং উদ্যোক্তাদের সহায়ক নীতিমালা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন।

বৈঠকে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুর রাজ্জাক আবাসন খাতে নিবন্ধন ব্যয় কমানোর দাবি জানান। তিনি বলেন, সীমিত জমি ও কৃষিজমি রক্ষার স্বার্থে পরিকল্পিতভাবে উচ্চ-ভবন (হাইরাইজ) নির্মাণ অপরিহার্য। এ খাত শক্তিশালী হলে অর্থনীতি আরো গতিশীল হবে এবং কর্মসংস্থান বাড়বে।

তিনি আরও বলেন, কর নীতি হতে হবে বিনিয়োগবান্ধব, বাস্তবমুখী ও দীর্ঘমেয়াদি—যেখানে বাজারের বাস্তবতা ও জাতীয় অর্থনীতির স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

রিহ্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. হারুন অর রশিদ ফ্ল্যাট দ্বিতীয়বার বিক্রির ক্ষেত্রে কর যৌক্তিক করার দাবি জানান। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ কমাতে উৎসে কর (টিডিএস) কমানোর আহ্বান জানান তিনি।

বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক মোজাম্মেল হক ভূঁইয়া ব্যাংক ঋণের সুদহার এক অঙ্কে (সিঙ্গেল ডিজিট) নামানোর দাবি জানান।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক মনিরুজ্জামান মনির জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করা আইবিডব্লিউএফ সভাপতি মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, শিল্প ও ব্যবসা খাতকে টেকসইভাবে এগিয়ে নিতে উদ্যোক্তাদের সমস্যা ও সম্ভাবনাকে বিবেচনায় রেখে বাজেট প্রণয়ন করতে হবে। তিনি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য কর সহায়তা, সহজ শর্তে ঋণ এবং উৎপাদন ব্যয় কমানোর কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।

বক্তারা স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি, সরকারি হাসপাতালের সেবার মানোন্নয়ন এবং ওষুধ শিল্পের বিকাশে গুরুত্ব দেন। এছাড়াও শিক্ষা খাতে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার জন্য বিনিয়োগ বাড়ানো, কারিগরি শিক্ষায় জোর দেওয়া এবং গবেষণায় বরাদ্দ বৃদ্ধিরও দাবি তোলা হয়। পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষি খাতে ভর্তুকি বৃদ্ধি, কৃষকদের সহজ শর্তে ঋণ এবং খাদ্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখার আহ্বান জানানো হয়।

বক্তারা শিল্পাঞ্চল সম্প্রসারণ, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, রপ্তানি খাতের উন্নয়ন এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে কার্যকর নীতিমালার ওপর গুরুত্ব দেন। তথ্যপ্রযুক্তি, অবকাঠামো, বিদ্যুৎ, পরিবহন ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবিও জানানো হয়।

গোলটেবিল বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন, আসন্ন জাতীয় বাজেটকে আরও কার্যকর, গণমুখী ও বিনিয়োগবান্ধব করা হলে দেশের অর্থনীতি আরো গতিশীল হবে এবং টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এমআর//