ঢাকা, সোমবার   ২৭ এপ্রিল ২০২৬,   বৈশাখ ১৩ ১৪৩৩

আসন্ন বাজেট নিয়ে  (২০২৬-২৭ ) যত চ্যালেঞ্জ ও প্রত্যাশা 

মো. মাঈন উদ্দীন, অর্থনীতি বিশ্লেষক ও ব্যাংকার

প্রকাশিত : ১০:০৩ পিএম, ২৬ এপ্রিল ২০২৬ রবিবার | আপডেট: ১০:০৪ পিএম, ২৬ এপ্রিল ২০২৬ রবিবার

আগামী অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের সময় অতি নিকটে ।  বিগত সাড়ে ষোল বছর  একটানা একটি স্বৈরশাসনের কবল থেকে দেশের অর্থনীতি মুক্ত হয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে কিছু দিন থাকার পর একটি গণতান্ত্রিক সরকারের মাধ্যমে প্রণীত হবে আগামী অর্থবছরের বাজেট।  তাই আসন্ন বাজেট নিয়ে জণপ্রত্যাশা অনেক। চলমান বাজেট ২০২৫-২৬ যা  অন্তর্বর্তী সরকারের  প্রনীত বা পেশ করা  যার আকার হলো সাত লাখ নব্বই হাজার কোটি টাকা।  

অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এবারের  বাজেটের সম্ভাব্য আকার হতে পারে ৮ লাখ ৮৩ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৯৩ হাজার কোটি টাকা বেশি। ইতোমধ্যে   জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট প্রণয়নকে সামনে রেখে অংশীজনদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক প্রাক-বাজেট আলোচনা শুরু করেছে।  জানা গেছে এ আলোচনা ও মত বিনিময় চলবে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত।মূলত বাজেটে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং কর ও শুল্ক কাঠামো নিয়ে অংশীজনদের সরাসরি প্রস্তাবনা গ্রহণই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

নানা প্রেক্ষাপট বিশেষ করে বিশ্ব অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা,ইরান-যূক্তরাষ্ট-ইসরাইল যুদ্ধ এসব কিছু বিবেচনায় রেখে নতুন সরকারকে বাজেট প্রণয়নে হাত দিতে হবে।
​ নতুন সরকারের  প্রথম ১০০ দিনের প্রথম চ্যালেঞ্জ হলো, একটা উপযোগী বাজেট তৈরি করা।  যেখানে নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিফলন  দেখা যাবে।দেখা যাবে  চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের জণআকাঙ্খার প্রতিফলন । তাই আশা ও প্রত্যাশার দোলা নিয়ে  আসন্ন বাজেট কতটুকু টেকসই ও জনবান্ধব হবে সেটা এখন দেখার বিষয়।  

আরো গুরুত্বপূর্ণ অন্য বিষয় হচ্ছে, আর্থিক খাতসহ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে কাঠামোগত সংস্কার আনা।  এসব সংস্কার ছাড়া অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে না। আর্থিক খাত, বিশেষ করে ব্যাংক খাতে দুর্দশাগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর সমস্যার সমাধান কীভাবে হবে, তা পরিষ্কার করতে হবে।  বাণিজ্য ও সরবরাহ  খাতে নানা সমস্যা আছে। বন্দর নিয়ে বিদেশিদের সঙ্গে চুক্তির বিষয়তো আছেই - এসব বিষয়ে সরকারের অবস্থান কী  সে আলোকে বাজেট এর প্রতিফলন কি হবে এটিও হবে, একটি চ্যালেঞ্জ। কারণ, বন্দরের সক্ষমতার ঘাটতি রয়েছে। আবার বিদেশিদের সঙ্গে চুক্তি করা নিয়েও বিরোধিতা রয়েছে।  ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট নবনির্বাচিত সরকারের প্রথম বাজেট হতে যাচ্ছে। এমন এক সময়ে এই বাজেট প্রণয়ন করা হচ্ছে, যখন দেশের অর্থনীতি অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি লক্ষ্যভিত্তিক পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে  । ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব ঘাটতি মোকাবিলা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। 

প্রতিষ্ঠানটির  নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন  মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতসহ বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে এই পরিস্থিতিতে নীতিনির্ধারকদের প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্যে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব শৃঙ্খলা বজায় রাখা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য লক্ষ্যভিত্তিক ও কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।

বাজেটের  কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে এবার আলোচনা করা যাক। যেমন- রাজস্ব ও ব্যয়ের ভারসাম্য, উন্নয়ন ব্যয় ও এডিপি, বাজেট ঘাটতি ও  ঋণের চাপ ।                                                 রাজস্ব আহরণ ও ব্যয়ের ভারসাম্য : অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক তথ্য  থেকে জানা যায় ,প্রস্তাবিত বাজেট কাঠামো অনুযায়ী মোট ব্যয় ধরা হতে পারে ৮ লাখ ৮৩ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হতে পারে প্রায় ৬ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা। তবে কাঠামো হতে পারে  রাজস্ব খাত (ট্যাক্সসহ): ৫ লাখ ৭১ হাজার কোটি টাকা, নন-ট্যাক্স রেভিনিউ: ৬৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে কর আদায়ের লক্ষ্য ধরা হতে পারে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা।

বিশ্লেষকদের মতে বাংলাদেশে প্রত্যাশিত রাজস্ব সংগ্রহ এখনও বড় চ্যালেঞ্জ।  জিডিপির তুলনায় কর আদায়ের হার  বাংলাদেশে দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশের তুলনায়   কম। রাজস্ব  বাড়ানোর বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা এদেশে এখনো স্পষ্ট নয়। তাই  বাজেটের উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্য অর্জনের জন্য কর ব্যবস্থার সংস্কার, করজাল সম্প্রসারণ এবং কর প্রশাসনের দক্ষতা বাড়ানো একান্ত জরুরি। এনবিআর সূত্রে জানা গেছে চলতি অর্থবছরে রাজস্ব ঘাটতি (ছয় মাসে) ৪৬ হাজার কোটি টাকা। ২০২৫-২৬ জুলাই - ডিসেম্বর পর্যন্ত এনবিআর রাজস্ব আহরণ করেছে ৮৫ হাজার ২২৯ কোটি টাকা। লক্ষ্য মাত্রা ছিল ২ লাখ ৩১ হাজার ২০৫ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। এতে লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে ৪৫ হাজার ৯৭৬ কোটি টাকা কম আদায় করেছে।এডিপি:আগামী অর্থবছরের জন্য বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ধরা হতে পারে প্রায় ২ লাখ ৫৩ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ২৩ হাজার কোটি টাকা বেশি।

অবকাঠামো উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা, জ্বালানি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে উন্নয়ন ব্যয়ের বড় অংশ বরাদ্দ থাকতে পারে। তবে পরিকল্পনা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এবার প্রকল্প বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কার্যকারিতা ও বাস্তবায়ন সক্ষমতাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কারন আমাদের দেশে প্রকল্প বাস্তবায়নের দীর্ঘসূত্রতা, ব্যয় বৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক জটিলতার একটি স্বাভাবিক বিষয় হয়ে গেছে। দীর্ঘ ষোল বছরে যারা কোন সুযোগ পায়নি তারা এ সুযোগে যাতে দূর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির আশ্রয় নিতে না পারে তা দেখাও একটি চ্যালেঞ্জ। 

 ঋণের চাপ ও বাজেট ঘাটতি বাজেট: 
প্রস্তাবিত বাজেটে মোট ঘাটতি ধরা হতে পারে প্রায় ২ লাখ ৪৭ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির প্রায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। এই ঘাটতি পূরণে প্রধানত দুই উৎসের ওপর নির্ভর করা হতে পারে—
অভ্যন্তরীণ উৎস: মোট সংগ্রহ লক্ষ্য- প্রায় ২ লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যাংক খাত থেকে ঋণ প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা। বৈদেশিক উৎস: সম্ভাব্য সংগ্রহ প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা।

ব্যাংককাররা মনে করেন, ব্যাংক খাত থেকে বেশি ঋণ নিলে বেসরকারি খাতের জন্য ঋণপ্রবাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। ফলে বিনিয়োগ ও শিল্পায়নের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বর্তমানে প্রবৃদ্ধির হার ৪ শতাংশের কাছাকাছি।যেখানে ৯ শতাংশ হারে টেকসই প্রবৃদ্ধি  অর্জন সম্ভব নয়।  আবার বেসরকারী বিনিয়োগ ২৩ শতাংশ থেকে ৩৫ শতাংশে না তুললে লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়।  বিএনপির ইশতেহারে বলা হয়েছে, তারা ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বের হয়ে আসতে চায়। এটি করতে হলে খুব বড় ধরনের বাজেট ঘাটতি রাখা যাবে না। আবার সীমিত বাজেট দিয়ে প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবায়ন করা যাবে, সেটিও দেখার বিষয়। 

 আবার  বিএনপি নির্বাচনের আগে সরকারি কর্মচারীদের বেতনের বিষয়টি  বিবেচনায় রাখবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ।  বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুসারে এক লাখ কোটি টাকার অতিরিক্ত অর্থ শুধু বেতনের জন্য দিতে হবে। আবার  বিএনপি পরিবার কার্ড বা কৃষক কার্ডের মতো অন্য যেসব সামাজিক সুবিধার কথা বলেছে, এসব গুলোর অর্থায়ন কীভাবে হবে, সেটিও ঠিক করতে হবে।
চ্যালেঞ্জ : ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে মধ্যদিয়ে গঠিত সরকারের প্রতি মানুষের যে চাওয়া পাওয়া, আকাঙ্ক্ষা রয়েছে তা পূরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হল জনকল্যাণ ও কর্মসংস্থান মূখী বাজেট।
  বাজেটের আকার যাইহোক না কেন  মূল প্রশ্ন হচ্ছে—প্রণীত  বাজেট কতটা বাস্তবায়নযোগ্য এবং  সাধারণ মানুষের জীবনে কতটা প্রভাব ফেলতে পারবে সেটা দেখার বিষয়।  তাই বাজেটের মূল চ্যালেঞ্জ গুলো হলো  মূল্যস্ফীতি , কর্মসংস্থান সংকট, রাজস্ব ঘাটতি এবং বিনিয়োগ স্থবিরতার মতো  বিষয়গুলো।       
 
রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা: লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় করা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। রাজস্ব আহরণে পিছিয়ে থাকলে উন্নয়ন গতি বাঁধার সম্মুখীন হয়। এজন্য পর্যাপ্ত রাজস্ব আয় বাড়াতে কর্মকৌশল তৈরী করতে হবে। প্রয়োজনীয় বা কাঙ্খিত মানের রাজস্ব আদায় একটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ।

উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি: গত তিন বছর ধরে দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে। ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে গড় মূল্যস্ফীতি হয়েছিল ১০ দশমিক ০৩ শতাংশ ।  অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে এটি  ৮ শতাংশের ঘরে এসে ঠেকলেও বর্তমানে ৯ শতাংশের উপরে এসেছে যা উচ্চ খাদ্য মূল্যস্ফীতির কারনে অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে আবার রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব ও অভ্যন্তরীণ বাজারের অস্থিরতাও কম দায়ী নয়। 

অর্থের অভাব ও ব্যাংক ঋণ: সরকারের ব্যাংক নির্ভরতা বাড়লে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ কমে যাওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। ২০২৫ এর ডিসেম্বর পর্যন্ত বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি কমেছে। পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য মতে ডিসেম্বর ২০২৫ শেষে বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ দশমিক ২০ শতাংশ। নভেম্বর ছিল ৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ। বিশ্লেষকদের মতে এ নিম্নগতির কারন হল বিনিয়োগের স্থবিরতা। এছাড়া আমদানি ব্যাপক হারে হ্রাসও কমদায়ীনয়। সরকারের বড় বিনিয়োগ ধরা হয় এডিপিতে যার অবস্থা যাচ্ছে তাই।২০২৫-২৬ অর্থবছরে এডিপি বাস্তবায়ন (ছয় মাসে) হয়েছে মাত্র ৪১ হাজার ১৭৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকা।এটি গত আট বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

নবম পে-স্কেল: সরকারি কর্মচারীদের নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবি, যা বাজেটের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে ।

ঋণ পরিশোধের চাপ: অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের সুদ পরিশোধের ব্যয় দিন দিন  বৃদ্ধি   পাচ্ছে । এখাতে  ক্রমাগত ব্যয় বৃদ্ধি কিন্ত রাজস্ব আহরণ ও বিনিয়োগের নিম্ন গতি অর্থনীতি উন্নয়নের জন্য অশনিসংকেত ।
                                           
বেকারত্ব বৃদ্ধি :  দেশের ক্রমাগত বেকারত্ব বৃদ্ধি ও বড় ধরনের সমস্যার কারন।  ২০২৩-২৪ সালে বেকারত্ব   দেড় গুন   বেড়েছে   । বিবিএস তথ্যমতে  ২০২৪ সালে  বেকারত্বের পরিমাণ ছিল ২৭ লাখ।                                                     

প্রত্যাশা: আসন্ন বাজেটের প্রতি জণপ্রত্যাশা অনেক। যেসব চ্যালেঞ্জ রয়েছে তা যত তাড়াতাড়ি উত্তোরন হবে প্রত্যাশা পূরণ দ্রুত বৃদ্ধি পাবে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা: নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী দারিদ্র্য হ্রাস, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের ওপর জোর  দিতে হবে। 

কর কাঠামো সংস্কার: মূল্যস্ফীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে করমুক্ত আয়সীমা ৫ লাখ টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব রয়েছে । সামাজিক নিরাপত্তা: সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী শক্তিশালী করতে হবে। বাজেটে এর পরিমাণ বাড়াতে হবে। তাছাড়া সঠিক ভুক্তভোগীরা যাতে এ সুবিধার আওতায় আসে তা নিশ্চিত করতে হবে।
বিনিয়োগ বৃদ্ধি: ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ বাড়াতে ও কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করতে প্রণোদনা দিতে হবে।        
                                  
অর্থনীতিবিদগণ মনে করেন বাজেট প্রণয়নের সময় দরিদ্র, প্রান্তিক ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের গতি বাড়াতে কার্যকর নীতিগত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এছাড়া অবকাঠামো উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা, জ্বালানি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে উন্নয়ন ব্যয়ের বড় অংশ বরাদ্দ থাকা চাই ।