ঢাকা, বুধবার   ২৯ এপ্রিল ২০২৬,   বৈশাখ ১৫ ১৪৩৩

জাল নোট নির্মূলে আসছে কঠোর আইন: অর্থমন্ত্রী

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১১:০৪ পিএম, ২৮ এপ্রিল ২০২৬ মঙ্গলবার

দেশে জাল নোটের বিস্তার রোধে সরকার একটি শক্তিশালী আইনি কাঠামো তৈরির কাজ করছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৩তম দিনে চাঁদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. জালাল উদ্দিনের নোটিশের প্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সংসদ সদস্য মো. জালাল উদ্দিনের নোটিশে বলা হয়, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তড়িঘড়ি করে নতুন ডিজাইনের ব্যাংক নোট ছাপানো ও বাজারে প্রচলনের ফলে বিভিন্ন গুরুতর সমস্যা পরিলক্ষিত হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে যে নোটের ডিজাইনে ত্রুটি, নিম্নমানের গ্রাফিকস, যথাযথ নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যের সংযোজনের অভাব, সিকিউরিটি ফিচারের সামঞ্জস্যহীন বিন্যাস এবং অবস্থান যথাযথ না হওয়ায় মুদ্রিত ব্যাংক নোটটির অবয়ব পরিপূর্ণতা লাভ করেনি ফলে অতি সহজে জাল করা সম্ভব বিধায় বাজারে জাল নোটের প্রবণতা উদ্বেগজনকহারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।’

নোটিশে তিনি আরও বলেন, ‘জাল টাকা বিস্তার, অবৈধ অর্থ ছাপানো ও নতুন ডিজাইনের ত্রুটিযুক্ত নোট প্রচলন একই সুতায় গাঁথা। দেশের মানুষের দুদর্শা লাঘবে কুচক্রকারীদের খপ্পর থেকে দেশ, জাতি ও অর্থনীতিকে নিরাপদ রাখতে হলে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার লক্ষ্যে একটি সংসদীয় কমিটি গঠন করার জন্য, মাননীয় স্পিকার, আপনার মাধ্যমে হাউসে প্রস্তাব করছি।’

নোটিশের জবাবে অর্থমন্ত্রী আরো জানান, ‘জাল নোটের প্রচলন রোধে একটি খসড়া আইন প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে প্রস্তাবিত আইনে জাল নোট তৈরি বা প্রকৃত মুদ্রার অনুকরণে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। আইনটি কার্যকর হলে জাল নোটের প্রচলন নিয়ন্ত্রণে এবং শেষ পর্যন্ত নির্মূলে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নোটের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য উন্নত করছে এবং বাজারে পর্যাপ্ত মানসম্মত নোট সরবরাহ নিশ্চিত করছে। সরকার নীতিগত ও প্রযুক্তিগত— উভয় দিক থেকেই এই সমস্যার সমাধানে কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।’

অর্থমন্ত্রী জানান, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে পরামর্শ করে যেকোনও প্রযুক্তিগত সমস্যা পর্যালোচনা করা হবে। কোনও ঘাটতি পাওয়া গেলে তা সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, ‘নতুন সিরিজের ব্যাংক নোট ইতোমধ্যে চালু হয়েছে, যা বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ঐতিহ্য ও স্থাপত্যকর্মের অনুপ্রেরণায় ডিজাইন করা হয়েছে। এসব ডিজাইন দেশের খ্যাতিমান শিল্পীদের অংশগ্রহণে প্রস্তুত করা হয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রা ও নকশা কমিটির সুপারিশে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার, ১৯৭২-এর ২৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী অনুমোদিত হয়েছে।’ নতুন নোটগুলোতে পূর্বের তুলনায় উন্নত ও আধুনিক নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য যুক্ত করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

পাশাপাশি জনগণকে এসব পরিবর্তন সম্পর্কে গণমাধ্যম ও বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অবহিত করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী।

এমআর//