কুড়িগ্রামে ট্রাক-মাইক্রোবাস সংঘর্ষ, শিশুসহ নিহত ৩
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ০৮:৩২ এএম, ২৯ এপ্রিল ২০২৬ বুধবার
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে পণ্যবাহী ট্রাক ও যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের মধ্যে ভয়াবহ এক সংঘর্ষে শিশুসহ তিনজন প্রাণ হারিয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১১ জন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাত পৌনে ১২টার দিকে উপজেলার বাঁশেরতল এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত ও আহতরা সবাই রংপুরে চিকিৎসক দেখিয়ে মাইক্রোবাসযোগে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন।
এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানোরা হলেন—ভূরুঙ্গামারীর আসাদমোড় উত্তর তিলাই এলাকার মো. মনির হোসেনের আট বছর বয়সী মেয়ে মোছা. ছাদিয়া, একই উপজেলার মো. জাহিদুল ইসলামের ছেলে মো. নুরনবী (২৮) এবং ধলডাঙ্গা গ্রামের মো. সাইফুর রহমানের ছেলে মাইক্রোবাস চালক মো. লিমন (২৮)।
আহতদের মধ্যে চারজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন—আব্দুল গফুরের ছেলে হামিদুল ইসলাম, আব্দুস ছাত্তারের মেয়ে শান্তা, সোহরাব আলীর ছেলে সমের আলী এবং মো. জয়নালের মেয়ে মোছা. জবা। বাকি আহতদের নাম-পরিচয় এখনও শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বেলাল হোসেন জানান, মাইক্রোবাসের যাত্রীরা রংপুর থেকে ডাক্তার দেখিয়ে ভূরুঙ্গামারীর দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ভুট্টাবোঝাই ট্রাক হুট করে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাইক্রোবাসটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে ঘটনাস্থলেই ৩ জন মারা যান এবং গাড়িটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। দ্রুত স্থানীয়রা এগিয়ে এসে উদ্ধার কাজ শুরু করেন।
নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ হিল জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মাইক্রোবাসটি ভূরুঙ্গামারী বাসস্ট্যান্ড এলাকা পার হওয়ার সময় ঘাতক ট্রাকটির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। নিহতদের মধ্যে দুইজন পুরুষ এবং একজন শিশু রয়েছে। এ ছাড়া আহতদের মধ্যে চারজন নারী ও একজন শিশু রয়েছেন, যাদেরকে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পরপরই ট্রাকটির চালক ও সহকারী পালিয়ে যাওয়ায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
এএইচ
