ঢাকা, বুধবার   ২৯ এপ্রিল ২০২৬,   বৈশাখ ১৬ ১৪৩৩

চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতায় জনদুর্ভোগে দুঃখ প্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৩:২২ পিএম, ২৯ এপ্রিল ২০২৬ বুধবার | আপডেট: ০৩:২৫ পিএম, ২৯ এপ্রিল ২০২৬ বুধবার

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতায় জনদুর্ভোগের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, ‘আমি মাননীয় সংসদ সদস্যকে বলতে চাই, এরই মধ্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের যে মেয়র আছেন ওনার সাথে আমার কথা হয়েছে। উনি এর মধ্যেই চেষ্টা করছেন। এই কষ্টের জন্য চট্টগ্রাম শহরে বসবাসকারী সকল নাগরিকের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।’

জলাবদ্ধতা নিরসনে জনসচেতনতা গড়ে তুলতে সংসদ সদস্যদের উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার সংসদ অধিবেশনে চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমানের পয়েন্ট অব অর্ডারে চট্টগ্রাম শহরে জলাবদ্ধতায় শহর তলিয়ে যাওয়া এবং নগরবাসীর দুর্ভোগের বিষয়টি তুলে ধরলে প্রধানমন্ত্রী এর ওপর বক্তব্য রাখেন।

সংসদ নেতা তারেক রহমান বলেন, ‘গতকাল থেকে সংবাদ মাধ্যমে আমিও দেখেছি, অতিবর্ষণের কারণে চট্টগ্রাম শহরের বেশ একটি বড় অংশ তলিয়ে গেছে, মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। এই সমস্যাটি শুধু চট্টগ্রামে না, বলা যায় সারাদেশেই ছড়িয়ে আছে। ঢাকা শহরে এরকম অনেক জায়গা আছে যেখানে বৃষ্টিতে ড্রেনের পানি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, পানি আটকে যাচ্ছে ফলে জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। এই সমস্যা অনেক দিনের।’

তিনি বলেন, 'শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সমগ্র বাংলাদেশে খাল খননের মাধ্যমে পানির রিজার্ভার তৈরি করেছিলেন। একইভাবে বন্যা বা জলাবদ্ধতাও দূর করেছিলেন। ঠিক একই কাজে আবার ফিরে যেতে হবে আমাদের।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, খাল খনন কর্মসূচির কাজটি আমরা শুরু করেছি। শহর অঞ্চলগুলোতে সমস্যা হচ্ছে, এখানকার ভেতরে যে লেকগুলো আছে বা যে বড় নালা, খালগুলো আছে সেগুলোর মুখ বন্ধ হয়ে প্রবল জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। আমরা বিভিন্ন জিনিস ব্যবহার করি -যেমন প্লাস্টিক বোতল, পলিথিন এসব ব্যবহার করে আমরা অসচেতনভাবে এগুলো এই খাল-বিলে ফেলে খাল নালার মুখ বন্ধ করে দিয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করছি।

তিনি বলেন, ‘সরকার এই ড্রেনগুলোকে ক্লিন করার চেষ্টা করছে। ঢাকা শহরে কয়েকটি করা হয়েছে। কিন্তু সাত থেকে দশ দিনের মধ্যে গিয়ে আমরা দেখছি যে আবার মানুষজন অসচেতন ভাবে এগুলোতে বিভিন্ন ময়লা ফেলে ব্লক করে দিচ্ছে।'

তারেক রহমান বলেন, এখানে ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম আছেন। তার  এলাকায় এই সমস্যাটি আছে। তিনি কয়েকদিন আগে আমার সাথে আলাপ করছিলেন এই বিষয়টি নিয়ে। আমি অন্যান্য এলাকায়ও যারা সংসদ সদস্য আছেন তাদের সাথে আলাপ করেছি। এটি একটি বিরাট সমস্যা। আমি মনে করি সরকার উদ্যোগ নিচ্ছে, আরও নেবে।'

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে সকল সংসদ সদস্য উপস্থিত আছেন। আপনাদের সকলের কাছে আমার একটি বিনীত অনুরোধ থাকবে, আসুন আমরা জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি করি। সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এই সমস্যা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। আমরা জনমত তৈরির মাধ্যমে, সচেতনতা তৈরির মাধ্যমে অনেকাংশেই সমস্যাটির সমাধান করতে পারব।’

তিনি বলেন, প্লাস্টিক বোতল বা পলিথিন বা আরো এই ধরনের যে দ্রব্যগুলো আছে যেগুলোতে ড্রেন বা নালা বা খালগুলো ব্লক হয়ে যায়, এগুলো কিভাবে আমরা ব্যবহার কমাতে পারি অথবা ব্যবহার করার পরে এগুলোকে প্রপারলি কিভাবে ডিসপোজ করতে পারি এই বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকেও উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। আমাদের সংসদ সদস্যদের নৈতিক দায়িত্ব এ বিষয়ে জনগণকে সচেতন করার।

তিনি বলেন,  'আমরা চেষ্টা করছি, যত দ্রুত সম্ভব এই সমস্যা থেকে মানুষকে বের করে নিয়ে আসার।'

উল্লেখ্য, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সকাল ১১টায় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়।

এএইচ