চক্ষু সেবায় প্রশিক্ষিত জনবল বাড়ানোর আহ্বান অরবিস প্রেসিডেন্টের
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ০৫:২৫ পিএম, ২৯ এপ্রিল ২০২৬ বুধবার
বাংলাদেশে চক্ষুসেবা শক্তিশালী করার লক্ষ্যে একটি সুপ্রশিক্ষিত জনশক্তি গড়ে তোলার প্রচেষ্টা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন অরবিস ইন্টারন্যাশনালের প্রেসিডেন্ট ও সিইও ক্যাথলিন শেরউইন।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ইস্পাহানি ইসলামিয়া চক্ষু ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে নার্স প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় তিনি এই আহ্বান জানান। ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রপিস ভিশন ইনিশিয়েটিভের অধীনে অরবিসের ‘কম্প্রিহেনসিভ ক্যাটারেক্ট সার্ভিসেস প্রজেক্ট’-এর আওতায় পরিচালিত তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠান ছিল এটি।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ইস্পাহানি ইসলামিয়া চক্ষু ইনস্টিটিউটের উপদেষ্টা জাহিদা ইস্পাহানি ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম আখতারুজ্জামান, অরবিস ইন্টারন্যাশনালের চিফ ফিনান্সিয়াল অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অফিসার মার্ক হোয়াইট ও ডিরেক্টর প্রোগ্রাম ফিনান্স উরি দিয়ালো এবং বাংলাদেশে অরবিসের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. মুনির আহমেদ।
অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে শেরউইন নার্সিং পেশাজীবীদের ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং রোগীর সেবার মান উন্নয়নে ধারাবাহিক পেশাগত উন্নয়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, “কার্যকর চক্ষুসেবা প্রদানের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন দক্ষ নার্সরা। তাদের প্রশিক্ষণে বিনিয়োগ করলে তা শুধু অস্ত্রোপচারের ফলাফলই উন্নত করে না, বরং সহানুভূতিশীল ও রোগীকেন্দ্রিক সেবাও নিশ্চিত করে।”
প্রতিরোধযোগ্য অন্ধত্বের সমস্যা মোকাবিলায় বাংলাদেশকে সহায়তা করার ব্যাপারে অরবিসের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সক্ষমতা বৃদ্ধি, উদ্ভাবন এবং শক্তিশালী অংশীদারিত্ব প্রয়োজন।
শেরউইন ইস্পাহানি ইসলামিয়া চক্ষু ইনস্টিটিউটের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি বৈঠকও করেন, যেখানে তিনি এই দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চলমান সহযোগিতা পর্যালোচনা করেন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা শক্তিশালীকরণ, সেবার মান উন্নয়ন এবং উন্নত চক্ষুসেবার সুযোগ সম্প্রসারণের উপায় নিয়ে আলোচনা করেন।
এর আগে, অরবিসের এই শীর্ষ কর্মকর্তা বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) পরিদর্শন করেন, যেখানে তিনি রেটিনোপ্যাথি অব প্রিম্যাচুরিটির (আরওপি) মতো জটিল রোগের ব্যবস্থাপনাসহ বিশেষায়িত চক্ষুসেবার উন্নয়নে চলমান বিভিন্ন উদ্যোগ পর্যবেক্ষণ করেন।
তিনি জ্যেষ্ঠ স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং বিএমইউ-তে প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও সেবা প্রদান আরও উন্নত করার সুযোগ নিয়ে আলোচনা করেন।
পরিদর্শনকালে অন্যদের মধ্যে বিএমইউ’র নবজাতকবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মান্নান এবং চক্ষুবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান ড. সৈয়দ আবদুল ওয়াদুদ উপস্থিত ছিলেন।
অরবিসের কর্মসূচি পর্যালোচনা, অংশীদারদের সাথে আলোচনা এবং দেশের চক্ষু স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার সুযোগ অন্বেষণের লক্ষ্যে শেরউইনের বৃহত্তর বাংলাদেশ সফরের অংশ ছিল এই সফর।
এমআর//
