ঢাকা, রবিবার   ০৩ মে ২০২৬,   বৈশাখ ২০ ১৪৩৩

পর্যটকদের বসার বেঞ্চ নির্মাণ নিয়ে সরকারের দুই দপ্তরের হুলুস্থুল কাণ্ড

বরগুনা প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ১২:৪৫ পিএম, ৩ মে ২০২৬ রবিবার | আপডেট: ০১:৩৭ পিএম, ৩ মে ২০২৬ রবিবার

বরগুনার নিদ্রা পর্যটন কেন্দ্রে পর্যটকদের জন্য বসার বেঞ্চ নির্মাণকে কেন্দ্র করে সরকারি দুই দপ্তরের মধ্যে ঘটে চলেছে হুলুস্থুল কাণ্ড। গচ্ছা গেল রাষ্ট্রের লক্ষাধিক টাকা। তবে সমন্বয়হীনতার কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার। এ নিয়ে সচেতন মহলে চলছে নানান সমালোচনা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বরগুনার তালতলী উপজেলার বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় নিদ্রা পর্যটন কেন্দ্রে তালতলী উপজেলা প্রশাসন পর্যটকদের বসার জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবছরের টিআর প্রকল্পের মাধ্যমে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা ব্যয়ে পাঁচটি কংক্রিটের বেঞ্চ নির্মাণ করে। যার প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সভাপতি হন ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. ইউনুস ফরাজী। আর কাজটি বাস্তবায়ন করে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস।

তবে গত ২৮ এপ্রিল এই পর্যটন কেন্দ্রে পরিদর্শনে আসেন বন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা। তখন তিনি বন বিভাগের জমিতে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ তুলে তালতলী উপজেলা বন বিভাগকে অপসারণের নির্দেশ দেন। এর প্রেক্ষিতে তালতলী উপজেলার বন বিভাগের কর্মকর্তারা নির্মাণাধীন বেঞ্চগুলো ভেঙে অপসারণ করেন।

অপরদিকে উপজেলা প্রশাসনের দাবি, পর্যটন কেন্দ্রে আগত পর্যটকদের বসার সুব্যবস্থার জন্য সরকারের এক নম্বর খতিয়ানভুক্ত খাস জমিতে বেঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মানববন্ধন করেন বেঞ্চ নির্মাণ কাজের প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ও সোনাকাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনুস ফরাজীসহ পর্যটন কেন্দ্রের বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা। মানববন্ধনে ইউনুস ফরাজী দাবি করেন, বন বিভাগের কর্মকর্তারা তাদের কাছে চাঁদা চেয়েছিলেন। চাঁদা না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে তারা নির্মাণাধীন বেঞ্চগুলো ভেঙে ফেলেছেন।

সরকারের দুই দপ্তরের সমন্বয়হীনতার কারণে রাষ্ট্রের লক্ষাধিক টাকা নষ্ট হওয়ায় স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, সরকারি টাকা ব্যয় করার সময় সঠিক পরিকল্পনা করা উচিত, যাতে রাষ্ট্রের অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহৃত হয় এবং নাগরিকরা সর্বোচ্চ সুফল ভোগ করতে পারেন।

এ বিষয়ে বন বিভাগের সকিনা বিট কর্মকর্তা রাহিমুল ইসলাম জুমেল বলেন, “গত ২৮ এপ্রিল বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নিদ্রা পর্যটন স্পট পরিদর্শনে আসেন। তখন তিনি বনের মধ্যে বেঞ্চ দেখতে পেয়ে আমাদের অপসারণের নির্দেশ দেন। তার নির্দেশ মোতাবেক আমরা বেঞ্চগুলো ভেঙে ফেলি। তবে তখন আমরা জানতাম না বেঞ্চগুলো উপজেলা প্রশাসন নির্মাণ করেছে।”

তালতলী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আল মাসুম জানান, নিদ্রা পর্যটন কেন্দ্রে পর্যটকদের বসার জন্য টিআর প্রকল্প থেকে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী সোনাকাটা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো. ইউনুস ফরাজীকে পিআইসি করা হয়। বেঞ্চ নির্মাণের প্রায় ৬০ শতাংশ কাজ শেষ হওয়ার পর বন বিভাগ তা ভেঙে ফেলে।

তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, সমন্বয়হীনতার কারণে একটি অনভিপ্রেত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যে স্থানে বেঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে, তা সরকারের এক নম্বর খাস খতিয়ানের জমি। তাই সেখানে বেঞ্চ নির্মাণে বন বিভাগের ভাঙার অধিকার নেই। তাছাড়া কোনো গাছের ক্ষতি করেও বেঞ্চ নির্মাণ করা হয়নি। এ বিষয়ে বন বিভাগের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং দ্রুত সমাধানে পৌঁছানো হবে।

এএইচ