ঢাকা, সোমবার   ০৪ মে ২০২৬,   বৈশাখ ২০ ১৪৩৩

জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন ব্যর্থ হয়েছে: নাহিদ ইসলাম

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১১:০৪ পিএম, ৩ মে ২০২৬ রবিবার

সংসদের প্রথম অধিবেশন ব্যর্থ হয়েছে মন্তব্য করে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, প্রথম অধিবেশনে বিভিন্ন সংস্কার প্রস্তাবগুলো কীভাবে বাস্তবায়ন হবে, সে বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সরকার তা না করে নিজের মতো সংসদ পরিচালনা করেছে। এভাবে করলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন  একমাত্র পথ হয়ে দাঁড়াবে।

রোববার (৩ মে) রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের মুক্তিযোদ্ধা হলে ‘জ্বালানি, অর্থনীতি, মানবাধিকার, সংস্কার ও গণভোট’ শীর্ষক জাতীয় কনভেনশনের সর্বশেষ সেশনের সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। জাতীয় নাগরিক পার্টির সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটি এ কনভেনশনের আয়োজন করেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, আমাদের ৫৪ বছর ধরে গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য লড়াই করতে হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের পর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কথা ছিল, কিন্তু শেখ মুজিবুর রহমান তার কবর রচনা করে বাকশাল প্রতিষ্ঠা করে। বিএনপি বহুদলীয় গণতন্ত্রের কথা বলে, কিন্তু নির্বাচনের পরে দেখলাম তারা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে।

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, আমরা বলেছি, উচ্চকক্ষ লাগবে। কারণ বাংলাদেশে যে কোনো সরকার ক্ষমতায় এলে সংবিধান নিজের মতো সংশোধন করে নেয়। ফলে একটা ভারসাম্য দরকার। সংবিধান পরিবর্তনের ক্ষেত্রে যেন একটি গণভোটের ব্যবস্থা থাকে। আমরা বলেছি, যেন সংবিধানিক প্রতিষ্ঠান দলীয়করণ না হয়, নিয়োগে প্রধানমন্ত্রীর একক হাতে না থাকে। সর্বদলের সম্মতিতে গ্রহণযোগ্যভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার যেন প্রতিষ্ঠা হয়, বিচার বিভাগের পৃথকীকরকণ হয়। এগুলো দিয়েই যে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হবে, তা নয়। তবে আমরা ধাপে ধাপে এগোতে চাই।

নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা সাংবিধানিক সংস্কারের কথা বলেছি। সংশোধনের মাধ্যমে এটা টেকসই হবে না। বিএনপি সংবিধানের মূলনীতি পরিবর্তন করতে চাইলে সেটি টেকসই হবে না, যে কোনো সময় এটা বাতিল হতে পারে। আমি সংসদে বলেছি, জিয়াউর রহমান এই ঐতিহাসিক ভুল করেছিল। ফলে বাহাত্তরের সংবিধানের ধারাবাহিকতার নামে আওয়ামী লীগের আদর্শ এবং রাজনীতি ফিরিয়ে আনার দরজা খোলা রাখা হচ্ছে। 

এনসিপির আহ্বায়ক আরও বলেন, নোট অব ডিসেন্টে অনেক কথা এসেছে। এটি আপনারা যে কোনো সিদ্ধান্তে দেখতে পাবেন। সংসদে অনেক সিদ্ধান্তে আমাদের বিরোধিতা আছে। অনেকের ভিন্নমত আছে। তার এই ভিন্নমত লেখা হয়, কিন্তু সিদ্ধান্ত পাশ হয়ে যায়। যেহেতু এটি একটি ঐতিহাসিক দলিল হয়ে থাকবে। জুলাই সনদ যেদিন স্বাক্ষর হয়, সেদিন আলাদা করে নোট যোগ করা হয়েছে সবগুলোতে। যে দল ক্ষমতায় আসবে, তারা ইশতেহার অনুযায়ী সনদ বাস্তবায়ন করবে, তাহলে তো আর সনদের কার্যকারিতা থাকে না। সে জায়গা থেকে গণভোট এসেছে। জুলাই ঘোষণাপত্র সংবিধানে যুক্ত করার প্রতিজ্ঞা দেওয়া আছে। এ বিষয়ে আমরা এখনও কথা বলতে শুনি। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণের লড়াই হোঁচট খেলে মানুষকে বারবার রাজপথে নেমে আসতে হয়। আমরা সেটা চাই না। 

এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীবের সঞ্চালনায় এই কনভেনশনে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সমাপনী অধিবেশনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, আমার বাংলাদেশ পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপনসহ রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষনেতারা 

এসময় বক্তারা সকলেই রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতার স্বার্থে দ্রুত সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করে একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের আহ্বান জানান। তারা মনে করেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হলে দেশ আবারও দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক অস্থিরতার মুখে পড়তে পারে।

এমআর//