ঢাকা, সোমবার   ০৪ মে ২০২৬,   বৈশাখ ২১ ১৪৩৩

কক্সবাজারে হামের উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু

কক্সবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ০৩:৫২ পিএম, ৪ মে ২০২৬ সোমবার | আপডেট: ০৩:৫৮ পিএম, ৪ মে ২০২৬ সোমবার

গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে হাম রোগের উপসর্গ নিয়ে ১৩ শিশুর মৃত্যু হলো।

রোববার (০৩ মে) সকাল ও রাতে পৃথকভাবে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এই দুই শিশুর মৃত্যু হয়।

মারা যাওয়া শিশুরা হলো- কক্সবাজারের রামু উপজেলার মিজানুর রহমানের ৮ মাস বয়সী পুত্র সন্তান আতিকুর রহমান এবং একই এলাকার জাবেদের ৬ মাস বয়সী কন্যা সন্তান ওয়াজিফা। 

কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল সূত্র বলছে, কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল ছাড়াও বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রতিদিনই হামের উপসর্গ নিয়ে শিশু ভর্তি হচ্ছে। শুরুতে জ্বর, কাশি ও সর্দির মতো সাধারণ লক্ষণ দেখা দিলেও অনেক শিশুর অবস্থাই অল্প সময়ের মধ্যে গুরুতর হয়ে পড়ছে। এতে হাসপাতালে রোগীর চাপও ক্রমাগত বাড়ছে। 

হাম রোগীদের জন্য একটি বিশেষ আইসোলেশন ইউনিট চালু করলেও চিকিৎসক স্বল্পতাসহ নানা কারণে চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে দায়িত্বরত চিকিৎসকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। এ নিয়ে অভিভাবকরা চরম উদ্বিগ্ন বলে জানিয়েছেন অনেকেই।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রামু উপজেলার জোয়ারিয়ানালার এলাকার শফিউল্লাহসহ একাধিক অভিভাবক জানিয়েছেন, হাম রোগের প্রথম উপসর্গ হচ্ছে শিশুদের শরীরে জ্বর আসা। প্রথমে তারা সাধারণ অসুখ মনে করলেও জ্বর না কমায় ধীরে ধীরে শিশুর অবস্থার অবনতি হওয়ায় তারা প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করার পর জানতে পারেন শিশুর হাম রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। পরে অবস্থা বেগতিক দেখে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শান্তনু ঘোষ জানান, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত সন্দেহে ৭৯ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এসময়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে শিশু ওয়াজিফাকে গত ২৪ এপ্রিল হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং ৩ মে সকাল ৮টায় তার মৃত্যু হয়। অন্য শিশু আতিকুর রহমানকে ৩ মে ভর্তি করা হলে সেদিন রাত ৯টা ২০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়।

সিভিল সার্জন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩ মে পর্যন্ত জেলায় মোট ১,৪৫২ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। এরমধ্যে শুধু ২৯ মার্চ থেকে ৩ মে পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৩৯৯ জন শিশু। এসময় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ জন শিশুর মারা গেছে।

এএইচ