ঢাকা, মঙ্গলবার   ০৫ মে ২০২৬,   বৈশাখ ২১ ১৪৩৩

যোগ্য পদ না পেয়ে ফেসবুক লাইভে ছাত্রদল নেতার কান্না, মুহূর্তে ভাইরাল

নওগাঁ প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ০৯:০৯ এএম, ৫ মে ২০২৬ মঙ্গলবার | আপডেট: ০৯:১১ এএম, ৫ মে ২০২৬ মঙ্গলবার

নওগাঁয় জেলা ছাত্রদলের কমিটিতে যোগ্য নেতাদের যোগ্য স্থান না দেওয়ায় জেলা জুড়ে তীব্র আলোচনা-সমালোচনার ঝড় সৃষ্টি করেছে। শহিদুল ইসলাম সোহাগ নামে ছাত্রদলের এক নেতা দীর্ঘদিন রাজপথে সক্রিয় ভূমিকার জন্য ব্যাপক পরিচিত পেলেও সম্প্রতি গঠিত নতুন কমিটিতে তাকে যোগ্য স্থান দেওয়া হয় নাই। তার এই বঞ্চনার কথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভে এসে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তুলে ধরেন তিনি।  

লাইভে তাকে কান্না জড়িত অবস্থায় কথা বলতে দেখা যায়, যা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে পড়ে। এতে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। 

সম্প্রতি নওগাঁ জেলা ছাত্রদলের ৯ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেখাকে সোহাগকে যুগ্ম আহবায়ক করা হয়েছে। এতে করে তিনি হতাশা প্রকাশ করেছেন।

সোহাগ দাবি করেন, দলের দুঃসময়ে তিনি সবসময় রাজপথের সামনের সারিতে ছিলেন। আন্দোলন-সংগ্রামের কারণে তার নামে ছয়টি মামলা হয়েছে এবং তাকে ৪৭ দিন কারাবরণ করতে হয়েছে। এছাড়া জেল গেটে সাত দিন ধরে জিজ্ঞাসাবাদের নামে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রভাব গিয়ে পড়ে তার পরিবারেও। গত ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর বিএনপির দুঃসময়ের এক পর্যায়ে তার দুই সহোদর ভাইকে গ্রেফতার করে পুলিশ এবং তারা প্রত্যেকে ৫৩ দিন করে কারাভোগ করেন।

এতসব ত্যাগ-তিতিক্ষার পরও দলীয় কমিটির মূল পদে তাকে স্থান না দেওয়াকে তিনি ‘বেদনাদায়ক ও হতাশাজনক’ বলে আখ্যা দেন। তার অভিযোগ, দলের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি না থাকা এবং আর্থিক সক্ষমতার অভাবের কারণেই তিনি বঞ্চিত হয়েছেন।

এ ঘটনায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেও ক্ষোভ বিরাজ করছে। অনেকেই মনে করছেন, এটি শুধু একজন সোহাগের প্রতি অবিচার নয়, বরং ত্যাগী নেতাদের প্রতি অবমূল্যায়নের একটি প্রতীকী উদাহরণ। তাদের মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে দলের জন্য অশনি সংকেত হয়ে দাঁড়াতে পারে।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে কয়েকজন নেতাকর্মীরা আরও অভিযোগ করেন, বর্তমানে যোগ্যতা ও ত্যাগের চেয়ে ‘আত্মীয়তা’ ও ‘অর্থনৈতিক প্রভাব’ বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। এতে করে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হচ্ছে এবং রাজপথের আন্দোলনে তাদের অংশগ্রহণ কমে যেতে পারে।

এ প্রসঙ্গে সোহাগ বলেন, এই ঘটনা প্রমাণ করে, ত্যাগের কোনো মূল্য নেই। মামা-চাচা বা অর্থনৈতিক শক্তি থাকলেই পদ পাওয়া যায় এটাই এখন বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জেলার ত্যাগী নেতাকর্মীদের একাংশের দাবি, অবিলম্বে এই কমিটি পুনর্বিবেচনা করে প্রকৃত ত্যাগী ও পরীক্ষিত কর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ পদে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। অন্যথায় দলের সাংগঠনিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ঘটনাটি ইতোমধ্যে নওগাঁর রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এখন দেখার বিষয়, দলের কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতৃত্ব এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয় এবং বিতর্কিত এই পরিস্থিতির কীভাবে অবসান ঘটে।

এএইচ