প্রক্সি প্রতিযোগী দিয়ে স্বর্ণ জয়ের অভিযোগ, ইবি ঘিরে বিতর্ক
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ১০:৫৬ পিএম, ৫ মে ২০২৬ মঙ্গলবার
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) অনুষ্ঠিত আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় অ্যাথলেটিক্সে ৮০০ মিটার দৌড় প্রতিযোগিতায় ‘প্রক্সি প্রতিযোগী’ অংশ নিয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) বিষয়টি জানাজানি হলে এ নিয়ে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়। এর আগে সোমবার (৪ মে) ভোরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে ওই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া হয় বলে জানা যায়।
জানা গেছে, ৮০০ মিটার দৌড় ইভেন্টে প্রথম স্থান অর্জন করেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাশরুর রহমান। দ্বিতীয় হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খালিদ মহিবুল্লাহ, তৃতীয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরিফুল ইসলাম এবং চতুর্থ যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহরিয়ার আহমেদ। তবে প্রথম স্থান অর্জনকারীকে ঘিরে প্রক্সি বিতর্ক শুরু হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, মাশরুর রহমান প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও তিনি অংশ নেননি; বরং তার পরিবর্তে অন্য একজন ব্যক্তি প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেন। তবে ওই ‘প্রক্সি’ ব্যক্তির পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অভিযোগ রয়েছে, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশিক্ষক সাহেব আলীর একজন ছাত্র।
অন্যান্য প্রতিযোগীদের দাবি, যাকে প্রথম স্থান অধিকারী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, তাকে তারা মাঠে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে দেখেননি। তাদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অসতর্কতা বা যোগসাজশে এ ঘটনা ঘটেছে।
দ্বিতীয় স্থান অধিকারী খালিদ মহিবুল্লাহ বলেন, প্রদর্শিত ছবির ব্যক্তি এবং মাঠে দৌড়ানো ব্যক্তি এক নন। আমি যাকে দেখেছি, তাকে প্রথম স্থান অধিকারী হিসেবে ঘোষিত ব্যক্তির সঙ্গে মিলাতে পারিনি।
চতুর্থ স্থান অধিকারী শাহরিয়ার আহমেদও একই অভিযোগ করে বলেন, প্রকৃত প্রতিযোগীর শারীরিক গঠন ও ফিটনেস ঘোষিত ব্যক্তির সঙ্গে মেলে না।
এদিকে অভিযুক্ত মাশরুর রহমান বলেন, তিনি প্রতিযোগিতায় অংশ নেননি এবং তার পরিবর্তে অন্য একজন অংশ নিয়েছেন। তবে পরে তার বক্তব্যে অসঙ্গতি দেখা দিলে তিনি ফোন কেটে দেন এবং এরপর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তার বিভাগে একই নামে অন্য কোনো শিক্ষার্থী নেই।
ইবির প্রশিক্ষক সাহেব আলী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি ওই সময়ে উপস্থিত ছিলাম না এবং বিষয়টির সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। যারা এন্ট্রি সম্পন্ন করেছেন, তারাই বিষয়টি ভালোভাবে বলতে পারবেন।
শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের উপ-পরিচালক আসাদুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমাদের অজান্তে ঘটেছে এবং তদন্ত চলছে। তিনি জানান, প্রকৃত অংশগ্রহণকারীদের যাচাই করে পুরস্কার পুনর্বিন্যাসের প্রক্রিয়া চলছে।
শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ড. শেখ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে কারও সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমআর//
