ঢাকা, বুধবার   ০৬ মে ২০২৬,   বৈশাখ ২৩ ১৪৩৩

সাংবাদিকতার জন্য সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রয়োজন: উপদেষ্টা ডা. জাহেদ

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৮:২২ পিএম, ৬ মে ২০২৬ বুধবার

অনলাইন ও ডিজিটাল গণমাধ্যমের দ্রুত বিকাশের কারণে সাংবাদিকতায় সুস্পষ্ট নীতিমালা ও আচরণবিধির (কোড অব কন্ডাক্ট) প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

বুধবার (৬ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের শেষ দিনে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, খুব সহজে এখন অনলাইনভিত্তিক মিডিয়া চালু করা যাচ্ছে। সেখানে নীতিমালার একটা অভাব আছে এটা আপনারাও নিশ্চয় স্বীকার করবেন। তাই সাংবাদিকতার পেশাগত মান ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে সরকার দ্রুত নীতিমালা ও রেগুলেটরি কাঠামো প্রণয়নের উদ্যোগ নিচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, জেলা প্রশাসকদের পক্ষ থেকে প্রস্তাব এসেছে যে, সাংবাদিক হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট মানদণ্ড ও আচরণবিধি থাকা প্রয়োজন, যাতে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনে প্রশাসন ও গণমাধ্যম উভয় পক্ষেরই পেশাদারিত্বের সুবিধা হয়। এ কারণে তথ্য মন্ত্রণালয় সাংবাদিকতার জন্য একটি নীতিমালা ও কোড অব কন্ডাক্ট তৈরির বিষয়ে কাজ করছে এবং তা দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ডিসিদের ওপর রাজনৈতিক প্রভাব আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদুর রহমান বলেন, ডিসিদের সঙ্গে আলোচনায় রাজনৈতিক প্রভাবের বিষয়টি আসেনি; বরং ডিজিটাল মিডিয়ার বিস্তার এবং সেটি ঘিরে সৃষ্ট বাস্তবতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

সরকারের তথ্যপ্রকাশ ও স্বচ্ছতা প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান সরকার গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত এবং ভবিষ্যতেও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চায়। তাই তথ্য গোপনের প্রবণতা থেকে সরকার সরে আসবে বলেই তিনি মনে করেন।

ডা. জাহেদুর রহমান বলেন, তথ্য গোপন করার যে প্রবণতা আগে দেখা গেছে, এই সরকার সেটা করতে দেবে না।

তিনি জানান, দীর্ঘদিন কার্যকর না থাকা তথ্য কমিশন দ্রুত পুনর্গঠন করা হবে। কমিশনকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হবে, যাতে তথ্যপ্রাপ্তি-সংক্রান্ত অভিযোগ ও সমস্যাগুলো কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা যায়।

গুজব ও অপতথ্য মোকাবিলায় সরকারের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন ডা. জাহেদ। তিনি জানান, ফ্যাক্ট-চেকিং কার্যক্রম জোরদার করতে ইতোমধ্যে একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় জেলা পর্যায়ের তথ্য অবকাঠামোকে সমন্বিত করা হবে।

তিনি আরো বলেন, জেলা পর্যায়ে সরকারের তথ্যসেবা কাঠামোকে নতুন ডিজিটাল বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। তার মতে, বিদ্যমান তথ্যসেবা কাঠামো নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর চেষ্টা করছে। তবে যেখানে ঘাটতি রয়েছে, সেখানে দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে সক্ষমতা বাড়ানো হবে।

ডা. জাহেদ আশা প্রকাশ করেন, প্রশাসন, গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বয়ে দেশে আরো উন্মুক্ত ও কার্যকর তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

এমআর//