ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৭ মে ২০২৬,   বৈশাখ ২৩ ১৪৩৩

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১১:৫৯ পিএম, ৬ মে ২০২৬ বুধবার

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল।

বুধবার (৬ মে) বিকেলে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অফিস কক্ষে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। 

বৈঠকে দু’দেশের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ইস্যু, অনিয়মিত অভিবাসন, রোহিঙ্গা ইস্যু, পুলিশের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বৃদ্ধি, পারস্পরিক আইনগত সহায়তা (এমএলএ) সহ পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়। 

হাইকমিশনার বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বিদ্যমান। উন্নত দেশগুলোর মধ্যে অস্ট্রেলিয়াই বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দেয়। বর্তমানে প্রায় এক লাখ বাংলাদেশি অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করছেন, যার মধ্যে প্রায় ২৮ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। 

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর অস্ট্রেলিয়ার তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্গ ঢাকা সফর করেন। আগামী জুন মাসে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট টিমের বাংলাদেশ সফরের বিষয় নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। মন্ত্রী এ সময় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পুনর্গঠনের কার্যক্রম সম্পর্কে হাইকমিশনারকে অবহিত করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমি উত্তরাধিকার সূত্রে একটি ভঙ্গুর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পেয়েছিলাম। তবে দায়িত্ব গ্রহণের পর গত আড়াই মাসে পরিস্থিতির যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। আমরা দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাই।

হাইকমিশনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রমবর্ধমান উন্নয়নে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আস্থা ব্যক্ত করেন। 

মন্ত্রী জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামর্থ্য বৃদ্ধিতে জনবল নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর আহ্বান জানালে হাইকমিশনার জানান, বর্তমানে এ ধরনের কর্মসূচি না থাকলেও বিষয়টি তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন। 

এছাড়া, পারস্পরিক আইনগত সহায়তা (এমএলএ) সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন। 

অনিয়মিত ও অবৈধ অভিবাসন রোধে দু’দেশের জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ কাজ করছে জানিয়ে হাইকমিশনার বলেন, নিয়মিত অভিবাসনের বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে অস্ট্রেলিয়া কাজ করছে। মন্ত্রী এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশও দক্ষ ও শিক্ষিত জনবল প্রেরণের মাধ্যমে নিয়মিত অভিবাসন বৃদ্ধিতে আগ্রহী।

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন ও জীবনমান উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহায়তা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো ভূমিকা ছাড়া বাংলাদেশের একার পক্ষে এই বিশাল জনগোষ্ঠীর ভার বহন করা সম্ভব নয়। 

গত ৪ মে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তা সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির প্রথম সভার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, ক্যাম্পে মাদক ও অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে। হাইকমিশনার রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক অর্থায়ন ও সহায়তা অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত পোষণ করেন। 

বৈঠকের শুরুতে মন্ত্রী হাইকমিশনারকে স্বাগত জানান। হাইকমিশনার নতুন পোর্টফলিওতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আন্তরিক অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন।

এ সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান, রাজনৈতিক-১ শাখার উপসচিব বেগম মিনারা নাজমীন এবং অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনের স্বরাষ্ট্র বিষয়ক কাউন্সিলর রুবেন গ্রে ও প্রথম সচিব (রাজনৈতিক) হ্যারি থম্পসন উপস্থিত ছিলেন।

এমআর//