কুষ্টিয়ায় রবীন্দ্রনাথের ১৬৫ তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ১০:৪২ পিএম, ৮ মে ২০২৬ শুক্রবার
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে ৩ দিনব্যাপী উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।
শুক্রবার (৮ মে) প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, শিলাইদহ কুঠিবাড়িকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করছে। তিনি বলেন, কুঠিবাড়ি বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক অনন্য অংশ। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আওতাধীন গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় স্থানগুলোকে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতেও সরকার কাজ করছে এবং শিলাইদহ কুঠিবাড়ি সেই পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত।
তিনি আরও বলেন, বাংলা সাহিত্য ও রবীন্দ্রনাথ একে অপরের পরিপূরক। বাংলা সাহিত্যের সব শাখাই তাঁর লেখনীতে সমৃদ্ধ হয়েছে। তিনি শুধু বাংলার কবি নন, বিশ্বচরাচরের কবি বিশ্বকবি।
এসময় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ, কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য আফজাল হোসেন, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন, কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক তৌহিদ-বিন-হাসান এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন।
পরে বিশ্বকবির রচিত জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। তিনদিনব্যাপী এই আয়োজনকে ঘিরে কুঠিবাড়ি প্রাঙ্গণে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। দেশ-বিদেশ থেকে আগত রবীন্দ্রপ্রেমী, সংস্কৃতিকর্মী ও দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে এবং জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এ উৎসবে রয়েছে রবীন্দ্রসংগীত, কবিতা আবৃত্তি, নৃত্য পরিবেশনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা। এতে অংশ নিচ্ছেন জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের শিল্পীরা।
উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কয়েকস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পুরো এলাকায় দায়িত্ব পালন করছেন।
উল্লেখ্য, জমিদারি তদারকির কাজে ১৮৯১ সালে প্রথম শিলাইদহ কুঠিবাড়িতে আসেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। এরপর তিনি বারবার এখানে ফিরে আসেন। পদ্মা নদীর তীরবর্তী নিভৃত পরিবেশে বসেই তিনি রচনা করেন অসংখ্য কালজয়ী সাহিত্যকর্ম। এখানকার অনুপ্রেরণায় রচিত গীতাঞ্জলি কাব্যের জন্য তিনি নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন।
এছাড়াও এখানে বসেই তিনি রচনা করেন বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতসহ বহু অমর সৃষ্টি। আজও কুঠিবাড়িতে সংরক্ষিত রয়েছে কবিগুরুর ব্যবহৃত নানা স্মৃতিচিহ্ন।
এমআর//
