কসবা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহত
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০২:৩২ পিএম, ৯ মে ২০২৬ শনিবার
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে দু’জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছে। একই ঘটনায় একাধিক বাংলাদেশি তরুণ আহত হন।
শুক্রবার গভীর রাতে উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের পাথারিয়াদ্বার সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মোরছালিন গোপীনাথপুর ইউনিয়নেন ধজনগরের বাতেনবাড়ি গ্রামের হেবজু মিয়ার ছেলে। তিনি গোপীনাথপুর শাহআলম ডিগ্রী কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। আরেক নিহত ৪০ বছর বয়সি নবীর হোসেনের বাড়ি মধুপুর গ্রামে।
দু'জনের মরদেহ আগরতলার জিবি হাসপাতালে রয়েছে বলে পারিবারিক সূত্র জানায়।
আহতদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। চিকিৎসার জন্য তাদেরকে কুমিল্লায় নেওয়া হয়েছে।
নিহতদের পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েকজন চোরাকারবারী রাতে মোরছালিনকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পাথারিয়াদ্বার সীমান্তে নিয়ে যায়। একই সময়ে নবীর হোসেনসহ কয়েকজন সীমান্ত এলাকায় যায়। সময় বিএসএফ তাদেরকে লক্ষ্য করে গুলি করলে ঘটনাস্থলে মুরছালিন নিহত হয়। পরে তার মরদেহ ভারতে নিয়ে যায়।
এ সময় আহত নবীর হোসেনকেও নিয়ে যাওয়া হয় বিএসএফ। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
নবীর হোসেনের ছেলে মো. তপন জানান, তার বাবা সন্ধ্যা থেকেই বাড়িতে ছিলেন না। তিনি সীমান্ত এলাকায় যাওয়ার পর বিএসএফ গুলি করে মরদেহ নিয়ে যায়। বিভিন্ন মাধ্যমে বাবার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন বলে জানান।
সুলতানপুর ব্যাটালিয়ন-৬০ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্ণেল এসএম শরিফুল ইসলাম দুইজনের নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গত রাতে সীমান্তে ১৫ জন বাংলাদেশী চোরাকারবারী ভারতীয় চোরাকারবারীর সহায়তায় চোরাচালানের উদ্দেশ্যে আনুমানিক ২০০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে ধজনগর-পাথারিয়াদ্বার এলাকায় প্রবেশ করে। এ সময় ভারত হতে চোরাচালানী মালামাল নিয়ে আসার সময় প্রতিপক্ষ ৪৯ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের পাথারিয়াদ্বার ক্যাম্পের টহল তাদের চোরাচালানে বাঁধা প্রদান করলে বাংলাদেশী চোরাকারবারী বিএসএফ সদস্যরদের উপর চড়াও হয়।
পরে বিএসএফ সদস্যদের সাথে হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তি হয়। হাতাহাতির এক পর্যায়ে বিএসএফ সদস্যরা চোরাকারবারীর উপর গুলি করলে ঘটনাস্থলে একজন নিহত হয়, অপরজন ভারতের একটি হাসপতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
দু’জনের মরদেহ ফ্ল্যাগ মিটিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান তিনি।
এএইচ
