আগের স্বামীর চিহ্ন না রাখতে নবজাতককে হত্যা, দম্পতি আটক
বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০৪:৪০ পিএম, ৯ মে ২০২৬ শনিবার | আপডেট: ০৪:৫১ পিএম, ৯ মে ২০২৬ শনিবার
বগুড়ায় পুকুর থেকে গলাকাটা নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এক দম্পতিকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, আগের স্বামীর সন্তানের কোনো চিহ্ন না রাখতেই জন্মের পর নবজাতককে হত্যা করে পুকুরে ফেলে দেয় মা নিজেই!
শনিবার সকালে বগুড়া সদরের শেখেরকোলা ইউনিয়নের তেলিহারা গ্রামে স্থানীয়রা পুকুরে মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেন।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। একই সঙ্গে জনরোষ থেকে উদ্ধার করে আটক করা হয় ওই এলাকার নিপা-দুলাল দম্পতিকে।
স্থানীয়রা জানান, বছর খানেক আগে বগুড়া শহরের নারুলী এলাকার শুকুর আলীর সঙ্গে বিয়ে হয় নিপা খাতুনের। পরে দাম্পত্য কলহের জেরে বিচ্ছেদ হলে প্রায় দুই মাস আগে শেখেরকোলা এলাকার দুলালের সঙ্গে দ্বিতীয় বিয়ে হয় তার।
অভিযোগ, শুক্রবার রাতে নিপা একটি সন্তান প্রসব করেন। এরপর লোকলজ্জা এবং আগের স্বামীর সন্তান না রাখতে নবজাতকের গলা কেটে হত্যার পর মরদেহ বাড়ির পাশের পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়!
পুলিশ বলছে, শেখেরকোলার দুলালকে বিয়ের সময়ই আগের স্বামী শুকুর আলীর সন্তান গর্ভে ছিল নিপার। সেই সন্তান বর্তমান স্বামী দুলাল মেনে নেবেন না—এমন আশঙ্কা থেকেই নবজাতক ছেলেকে ব্লেড দিয়ে গলা কেটে হত্যার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন নিপা।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইব্রাহিম আলী বলেন, লোমহর্ষক এ ঘটনা নিপা একাই ঘটিয়েছেন, নাকি এতে দ্বিতীয় স্বামী দুলালও জড়িত—তা নিশ্চিত হতে দুলালকেও আটক করা হয়েছে।
এদিকে, এ ঘটনায় ওই দম্পতিকে দায়ী করে তাদের বিচার চেয়েছেন স্থানীয়রা।
এএইচ
