ঢাকা, রবিবার   ১০ মে ২০২৬,   বৈশাখ ২৭ ১৪৩৩

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও সিন্ডিকেট সদস্যের পদত্যাগ

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৬:৪৩ পিএম, ১০ মে ২০২৬ রবিবার

পদোন্নতি ইস্যুকে কেন্দ্র করে চলমান অস্থিরতার মধ্যেই বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) প্রশাসনিক দুই গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন দুই শিক্ষক। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর পদ থেকে সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. রাহাত হোসাইন ফয়সাল এবং সিন্ডিকেট সদস্যের পদ থেকে সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানভীর কায়ছার উপাচার্যের কাছে পৃথকভাবে অব্যাহতিপত্র জমা দিয়েছেন। অব্যাহতির আবেদনে তারা ব্যক্তিগত কারণের কথা উল্লেখ করেছেন। 

রোববার (১০ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন প্রক্টর ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল। অপরদিকে একদিন দুপুরে উপাচার্যর কাছে সিন্ডিকেট সদস্যের পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে পত্র জমা দিয়েছেন সিন্ডিকেট সদস্য ড. মোহাম্মদ তানভীর কায়সার।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পদোন্নতির দাবিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬০ শিক্ষক আন্দোলন করে আসছেন গত ২১ এপ্রিল থেকে। শিক্ষদের অভিযোগ, নানা সময়ে উপাচার্য আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন করতে পারেননি। উপাচার্য বলছেন সংবিধি প্রণয়ন না করে শিক্ষকদের পদোন্নতি দেওয়া সম্ভব নয়।

এদিকে শনিবার (৯ মে) পদোন্নতি জটিলতা নিরসনের জন্য জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডাকা হয়। অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৪তম সিন্ডিকেট সভায় সিদ্ধান্ত হয়, সংবিধি প্রণয়ন ছাড়া শিক্ষকদের পদোন্নতি দেওয়া সম্ভব নয়। ওই সিদ্ধান্তের একদিন পরই প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে দুই শিক্ষকের সরে দাঁড়ানোর ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। 

পদত্যাগের বিষয়ে সহযোগী অধ্যাপক ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল জানান, উপাচার্যের কার্যক্রমে তিনিসহ তার সহকর্মী শিক্ষক কর্মকর্তা সবাই হতাশ। উপাচার্য তাদের ন্যায্য দাবি উপেক্ষা করেছেন। সার্বিক বিষয় নিয়ে উপাচার্যকে বারবার অনুরোধের পরও কোনো কাজ না হওয়ায় পদত্যাগ করছেন তিনি। শিক্ষকদের চলমান আন্দোলন নিয়ে তারা পরবর্তীতে ব্রিফ করবেন বলে জানিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ড. মোহাম্মদ তানভীর কায়সার বলেন, ‘আমি সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষকদের পক্ষে কথা বললেও তা উপেক্ষা করা হয়। শিক্ষকদের দাবির বিষয়টি বারবার বলা সত্ত্বেও তা অগ্রাহ্য করা হয়েছে। এ কারণে আমি আমার পথ থেকে পদত্যাগ করেছি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, ‘আমার কাছে এখনো পদত্যাগের কোনো চিঠি আসেনি। তবে আমাকে মৌখিকভাবে জানিয়েছিলেন অব্যাহতি দেওয়ার জন্য।’

এমআর//