বরিশালে আকস্মিক হাসপাতাল পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, কর্মচারীকে বরখাস্ত
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ০৭:০৬ পিএম, ১১ মে ২০২৬ সোমবার | আপডেট: ০৭:০৮ পিএম, ১১ মে ২০২৬ সোমবার
বরিশালের বিভিন্ন হাসপাতাল আকস্মিকভাবে পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন । এ সময় হাসপাতালগুলোর চিকিৎসাসেবা, পরিচ্ছন্নতা, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য এবং জনবল সংকট নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
সোমবার (১১ মে) বেলা ১১টার দিকে মন্ত্রী প্রথমে বরিশাল জেনারেল হাসপাতাল (সদর হাসপাতাল) পরিদর্শনে যান।
পরিদর্শনকালে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় হাসপাতালের ডায়ালাইসিস টেকনিশিয়ান জসিম মাতুব্বরকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এছাড়াও হাসপাতালের টিকিট কাউন্টার ও বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন তিনি। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালের বহির্বিভাগের চিকিৎসা ব্যবস্থার মান সন্তোষজনক নয়। এ বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ককে সার্বক্ষণিক নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বহির্বিভাগে চিকিৎসকরা দেড়িতে আসে বলেও অভিযোগ পেয়েছি।
তিনি বলেন, রোগীদের অভিযোগ রয়েছে-হাসপাতালে দালালদের অবাধ যাতায়াত রয়েছে এবং তারা রোগীদের বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করে। এসব দালালের বিরুদ্ধে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের ভেতর ও বাইরের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হাসপাতাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার নির্দেশ দেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।
হামের পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, যাদের টিকা দেওয়া হয়েছে তাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হতে প্রায় চার সপ্তাহ সময় লাগে। এরপর হামের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
তিনি বলেন, প্রতি চার বছর পর পর হামের টিকা কার্যক্রম পরিচালনার কথা থাকলেও ২০২০ সালের পর ধারাবাহিকতা বজায় না থাকায় বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমান সরকারের হাতে শুরুতে পর্যাপ্ত হামের টিকা ছিল না। তবে অল্প সময়ের মধ্যে টিকা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং বর্তমানে রোগীর সংখ্যাও কিছুটা কমেছে।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি সিটি কর্পোরেশনের মাধ্যমে নিয়মিত মশার ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। ঢাকা মেডিকেলের সামনে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মোবাইল হাসপাতালও চালু করা হয়েছে।’ তবে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে জন সচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতার কোনো বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন স্বাস্থ্য মন্ত্রী।
জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শনের পর দুপুরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী নগরীর আমানতগঞ্জ এলাকায় উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকা শিশু হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দ্রুত হাসপাতালটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে উদ্বোধন করা হবে এবং জুলাই মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে।
মন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী সরকার হাসপাতালটির জন্য পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ বা জনবল নিয়োগ দেয়নি। ফলে বর্তমানে স্বাস্থ্য বিভাগে জনবল সংকট তৈরি হয়েছে।
পরে তিনি বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। সেখানে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির কার্যক্রম নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অতীতে যারা ব্যবস্থাপনা কমিটির দায়িত্বে ছিলেন তারা স্থানীয়ভাবে অবস্থান না করে ঢাকায় থাকতেন। ফলে হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে পরিচালিত হয়নি।
হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটি পুনর্গঠন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একজন মন্ত্রীকে সভাপতি এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সদস্য করে শিগগিরই নতুন ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা হবে।
এ ছাড়া, তিনি ঢাকায় ফেরার পথে কয়েকটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করবেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।
এমআর//
