ঢাকা, মঙ্গলবার   ১২ মে ২০২৬,   বৈশাখ ২৯ ১৪৩৩

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি সংকটাপন্ন অবস্থায়: ট্রাম্প

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১০:২২ এএম, ১২ মে ২০২৬ মঙ্গলবার

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধবিরতি `মারাত্মক সংকটাপন্ন অবস্থায়' রয়েছে বলে মন্তব্য বরেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধবিরতি চলমান থাকলেও সেটি ‘অবিশ্বাস্যরকম দুর্বল’ হয়ে পড়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সোমবার ওভাল কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সামনে এমন মন্তব্য করেন ট্রাম্প। 

এই মন্তব্যের পর ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ গালিবাফ এক্স হ্যান্ডের একটি পোস্টে লিখেছেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের জবাব এবং শিক্ষা দিতে প্রস্তুত আছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের জবাবে রোববার ইরান যে পাল্টা প্রস্তাব পাঠিয়েছে, সেখানে যুদ্ধ বন্ধ এবং মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে নিয়ে হরমুজ প্রণালীকে পুনরায় খুলে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

তেহরানের এই প্রস্তাবকে প্রত্যাখ্যান করে সেটাকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ এবং ‘আবর্জনা’ বলে অভিহিত করেছেন ট্রাম্প।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্যের পর ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, তেহরানের প্রস্তাবগুলো ছিল দায়িত্বশীল এবং উদার।

ইরানের সশস্ত্র বাহিনী জবাব দিতে প্রস্তুত বলে মন্তব্য করার পর ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার গালিবাফ তার এক্স হ্যান্ডেলে প্রকাশিত আরেকটি পোস্টে বলেছেন, "১৪-দফা প্রস্তাবে বর্ণিত ইরানি জনগণের অধিকার মেনে নেওয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই" যুক্তরাষ্ট্রের হাতে।

"তারা যত গড়িমসি করবে, মার্কিন করদাতাদের তত বেশি মূল্য দিতে হবে," বলেন গালিবাফ।

ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমের খবরে বলা হয়েছে, তেহরান প্রস্তাবিত ১৪-দফা শান্তি প্রস্তাবের মধ্যে লেবাননসহ সব জায়গায় অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করা, ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া এবং দেশটির ওপর নতুন করে আর কোনো হামলা না চালানোর নিশ্চয়তার মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্রস্তাবটিতে লেবাননের বিষয়টি আলাদা গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, কারণ চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেও সেখানে ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হেজবুল্লাহর ওপর হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলি বাহিনী।

সেইসঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সেটির জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে তেহরান। এছাড়া হরমুজ প্রণালির ওপর দেশটির একক নিয়ন্ত্রণ বজা রাখার বিষয়টিও ১৪-দফা শান্তি প্রস্তাবে গুরুত্ব পেয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

ইরানের এই প্রস্তাবের সমালোচনা করে রোববার সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেছেন, ইরানের তথাকথিত 'প্রতিনিধিদের' পক্ষ থেকে পাঠানো প্রতিক্রিয়াটি আমি এইমাত্র পড়লাম। এটা আমার পছন্দ হয়নি, পুরোপুরিভাবে অগ্রহণযোগ্য।

ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের জবাবে ইরানের পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র বাঘাই বলেছেন, আমাদের স্বার্থ অক্ষুন্ন রাখতে প্রয়োজনীয় যেকোনো পদক্ষেপ নেবে ইরান।

এ ঘটনার পর সোমবার নিজের ওভাল কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি, যেটি কিছু গোলাগুলির ঘটনার পরও গত এপ্রিল মাস থেকে কার্যকর রয়েছে, সেটি নিয়ে কথা বলেন তিনি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট সাংবাদিকদের বলেন, আমি বলবো যুদ্ধবিরতি এখন 'ম্যাসিভ লাইফ সাপোর্টে' বা জীবনমৃত্যুর চরম সন্ধিক্ষণে রয়েছে।

"এটা ঠিক সেই অবস্থা যখন ডাক্তার এসে বলেন, 'স্যার, আপনার প্রিয়জনের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা মাত্র এক শতাংশ'," বলেন ট্রাম্প।

বক্তব্য প্রদানকালে ইরানি নেতাদের "অত্যন্ত অসম্মানজনক ব্যক্তি" বলে অভিহিত করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি আরও বলেন, দেখুন, আমাকে তাদের সঙ্গে চার-পাঁচবার কাজ করতে হয়েছে। তারা বার বার তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে।

স্থায়ীভাবে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে ইরানের পাঠানো প্রস্তাবের বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, “ওরা আমাদের যে আবর্জনাটা পাঠিয়েছিল, সেটা আমি পড়ে শেষও করিনি।”

ট্রাম্প আরও অভিযোগ করেছেন যে, ইরান যতটুকু ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে, সেটি সরিয়ে নেওয়ার অনুমতি দিচ্ছে না তেহরান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানের কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না।

প্রায় ৪০ দিনের যুদ্ধ শেষে গত এপ্রিল মাসের প্রথমার্ধে সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এরপর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দু'পক্ষের মধ্যে শান্তি আলোচনা হলেও সেটি এখনও ফলপ্রসু হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়পক্ষ নিজেদের মতো করে আলাদা শান্তি প্রস্তাব দিয়েছে। কিন্তু কোনোপক্ষই চুক্তির বিষয়ে এখনও ঐক্যমত্যে পৌঁছাতে পারেনি।

সূত্র: বিবিসি

এএইচ