আরও ২ মামলায় খায়রুল হকের জামিন, মুক্তিতে বাধা নেই
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ০৩:৩১ পিএম, ১২ মে ২০২৬ মঙ্গলবার | আপডেট: ০৩:৩৩ পিএম, ১২ মে ২০২৬ মঙ্গলবার
জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও মিরপুর থানার দুই মামলায় হাইকোর্টে জামিন পেলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক। আপাতত তার মুক্তিতে বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
মঙ্গলবার (১২ মে) বিচারপতি কে এম জাহিদ সরওয়ার কাজল ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে খায়রুল হকের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী, অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু, অ্যাডভোকেট মো. জাহাঙ্গীর হোসেন।
এর ফলে আপাতত তার কারামুক্তিতে বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। এর আগে জুলাই আন্দোলনের সময় যুবদলকর্মী হত্যা, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রায় জালিয়াতি, দুর্নীতিসহ পাঁচ মামলায় জামিন পেয়েছিলেন খায়রুল হক।
গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
গ্রেপ্তারের পর তার বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি মামলা হয়। এর মধ্যে ২৭ আগস্ট শাহবাগ থানায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংক্রান্ত রায় জালিয়াতির অভিযোগে একটি মামলা করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন।
এর আগে ২৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানায় জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারী ভূঁইয়া মামলা করেন। একই অভিযোগে বন্দর থানায় আরেকটি মামলা করেন নুরুল ইসলাম মোল্লা। পাশাপাশি প্লট জালিয়াতি ও দুর্নীতির অভিযোগে ৪ আগস্ট দুদকও একটি মামলা করে।
এসব মামলায় অধস্তন আদালতে জামিন না পেয়ে তিনি হাইকোর্টে আবেদন করেন। পরে হাইকোর্ট পাঁচ মামলায় রুল জারি করে চার মামলায় জামিন দেন। গত ৮ মার্চ বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের বেঞ্চ সেই রুল নিষ্পত্তি করে চার মামলায় জামিন দেন। পরে ১১ মার্চ দুদকের মামলায়ও তিনি জামিন পান।
পরে রাষ্ট্রপক্ষ জামিন স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে। তবে ২৮ এপ্রিল প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ সেই আবেদন খারিজ করে দেয়।
এদিকে অধস্তন আদালতে আরও দুই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হলে তিনি আবারও হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন।
উল্লেখ্য, ২০১০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর দেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান এ বি এম খায়রুল হক। ২০১১ সালের ১৭ মে তিনি অবসরে যান। পরে তিনি তিন দফায় আইন কমিশনের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।
এএইচ
