ঢাকা, শনিবার   ১৬ মে ২০২৬,   জ্যৈষ্ঠ ১ ১৪৩৩

যে কোনো সময় কমিটির ঘোষণা, ঢাকা উত্তর যুবদলের কমিটিতে আলোচনায় যারা

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৯:৫৫ পিএম, ১৫ মে ২০২৬ শুক্রবার

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তরের পূর্ণাঙ্গ কমিটি যেকোনো সময় ঘোষণা হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে আহ্বায়ক কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত সংগঠনটিকে এবার পূর্ণাঙ্গ ও শক্তিশালী কাঠামোয় আনতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

নতুন এ কমিটিকে ঘিরে রাজধানীর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে চলছে ব্যাপক আলোচনা, হিসাব-নিকাশ ও তৃণমূল পর্যায়ে মতামত সংগ্রহ।

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, এবার শুধু পদ বণ্টন নয়; বরং আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা, সাংগঠনিক দক্ষতা, রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা, ক্লিন ইমেজ এবং তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ, এসব বিষয়কে সামনে রেখেই নেতৃত্ব মূল্যায়ন করা হচ্ছে। বিশেষ করে দীর্ঘ সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় যারা মামলা, হামলা, গ্রেপ্তার ও দমন-পীড়নের মধ্যেও রাজপথে সক্রিয় ছিলেন এবং সংগঠন সচল রেখেছেন, তাদের নামই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

২০২৩ সালের আগস্টে যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের আগের কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। সেই কমিটিতে শরীফ উদ্দিন জুয়েলকে আহ্বায়ক এবং মনিরুল ইসলাম স্বপন, তসলিম আহসান মাসুম ও আবুল হাসান টিটুকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়। সদস্য সচিব করা হয় সাজ্জাদুল মিরাজকে। এরপর থেকে রাজধানীর বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি, মিছিল-সমাবেশ, গণসংযোগ ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে এ নেতাদের সরব উপস্থিতি দেখা গেছে। বিশেষ করে বিএনপির ধারাবাহিক আন্দোলনের সময় মহানগর উত্তরে যুবদলের সাংগঠনিক কাঠামো ধরে রাখতে তাদের ভূমিকা নিয়ে দলীয় অভ্যন্তরে ইতিবাচক আলোচনা রয়েছে।

বর্তমানে উত্তর যুবদলের সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন সদস্য সচিব সাজ্জাদুল মিরাজ। এছাড়া তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান উত্তর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক তসলিম আহসান মাসুম, মনিরুল ইসলাম স্বপন, আবুল হাসান টিটু, আমিনুল ইসলাম এবং এস এম মিজানুর রহমান রাজের নামও আলোচনায় রয়েছে। রাজ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সদস্য।

দলীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তসলিম আহসান মাসুম দীর্ঘদিন ছাত্রদল ও যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তিনি তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ছিলেন এবং বর্তমানে মহানগর উত্তর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সাম্প্রতিক সময়ে তার সাংগঠনিক তৎপরতা ও তৃণমূল পর্যায়ে যোগাযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দাবি নেতাকর্মীদের।

অন্যদিকে মনিরুল ইসলাম স্বপনকে দীর্ঘদিনের রাজপথের পরীক্ষিত নেতা হিসেবে দেখছেন অনেকে। রাজধানীতে বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে তার উপস্থিতি নিয়মিত ছিল বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। বিশেষ করে দমন-পীড়নের সময় মাঠে সক্রিয় থাকা এবং নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে ভূমিকা রাখায় তিনি তৃণমূলের একটি অংশের সমর্থন পাচ্ছেন।

আবুল হাসান টিটুকেও সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় নেতা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন, মহানগরের বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে যোগাযোগ এবং কর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার কারণে তিনিও সভাপতি পদের আলোচনায় রয়েছেন।

দলীয় একাধিক সূত্র দাবি করছে, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এবার এমন কাউকে সভাপতি করতে চায়, যিনি একদিকে রাজপথের পরীক্ষিত, অন্যদিকে সাংগঠনিক ভারসাম্য রক্ষা করতে সক্ষম। সেই বিবেচনায় কয়েকজন নেতার নাম এখন আলোচনার শীর্ষে।

এছাড়া সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন আমিনুল ইসলাম। ছাত্রদল থেকে যুবদলের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, সরকারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগের কারণে তাকে ঘিরেও মহানগর উত্তর যুবদলের রাজনীতিতে আলোচনা রয়েছে।

সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় যারা

সাধারণ সম্পাদক পদেও চলছে জোর আলোচনা। সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন ছাত্রদল ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং উত্তর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহ্ফুজ-উর-রহমান লিপকন।

এছাড়া এ পদে আলোচনায় রয়েছেন তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও যুবদল উত্তরের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আমিনুল হক হিমেল। ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা, সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং কর্মীদের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্কের কারণে মাহ্ফুজ-উর-রহমান লিপকনের নামও গুরুত্ব পাচ্ছে বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন কামাল আহমেদ দুলু। তিনি এর আগে রামপুরা থানা ছাত্রদল ও যুবদলের বিভিন্ন দায়িত্বশীল পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।

দলীয় একাধিক দায়িত্বশীল নেতা মনে করছেন, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে অভিজ্ঞ ও তরুণ নেতৃত্বের সমন্বয় ঘটানো হলে সংগঠন আরও গতিশীল হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরির ক্ষেত্রেও তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা এবার বিতর্কমুক্ত, ত্যাগী ও গ্রহণযোগ্য নেতাদের নেতৃত্বে দেখতে চান। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলনে যারা রাজপথে ছিলেন, দুঃসময়ে কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং সাংগঠনিক কাঠামো সচল রেখেছেন, তাদের মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

নেতাকর্মীরা বলছেন, দলের চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন ও সংগঠনের পুনর্গঠনের যে বার্তা দিচ্ছেন, সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে পরীক্ষিত ও পরিশ্রমী নেতাদের বিকল্প নেই।

এদিকে মহানগর উত্তর যুবদলের বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের কমিটি পুনর্গঠন নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে মহানগর উত্তরের একাধিক থানা ও ওয়ার্ডে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। সব মিলিয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের নতুন কমিটি ঘিরে এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে। কে হচ্ছেন সভাপতি, আর কে পাচ্ছেন সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব—তা নিয়ে চলছে নানামুখী হিসাব-নিকাশ। তবে শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কাদের ওপর আস্থা রাখছে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উত্তর যুবদলের সদস্য সচিব সাজ্জাদুল মিরাজ বলেন, “দল যেখানে মনে করবে, সেখানে রাখবে। দলের ওপর ও দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর আমার আস্থা রয়েছে।”

যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও সম্ভাব্য সভাপতি প্রার্থী তসলিম আহসান মাসুম বলেন, “বিগত দিনে দলের পেছনে যে সময় দিয়েছি, দল যদি সব কিছু বিবেচনায় নিয়ে আমার ওপর আস্থা রাখে, তাহলে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে আর কিছু বলার সুযোগ নেই। সর্বশেষ দলীয় সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হিসেবে মেনে নেব।”

অন্যদিকে ছাত্রদল ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি ও সম্ভাব্য সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “আমার কাছে সবচেয়ে বড় বিষয় হলো দল আমাকে মূল্যায়ন করছে। উত্তর ছাত্রদলের দায়িত্ব যেমন দিয়েছে, ভবিষ্যতেও দল যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটিকেই আমি সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে মেনে নেব।”


এমআর//