ঢাকা, শনিবার   ১৬ মে ২০২৬,   জ্যৈষ্ঠ ১ ১৪৩৩

ঝিনাইদহে কমিটি ঘোষণার পর ছাত্রদলের তিন নেতার পদত্যাগ

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১০:১০ পিএম, ১৫ মে ২০২৬ শুক্রবার

দীর্ঘ সাড়ে আট বছর পর ঘোষিত ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটিতে পদ পাওয়ার পর পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন কমিটির তিন নেতা।

তারা হলেন—সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. সাইদুর রহমান শাহেদ, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার মাহমুদ।

গত ১২ মে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রদলের ৬ সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে মো. ইমরান হোসেনকে সভাপতি ও শাহরিয়ার রাসেলকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়।

কমিটি ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পৃথক পোস্ট দিয়ে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিন নেতা। নিজেদের পোস্টে তারা দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, আন্দোলন-সংগ্রাম এবং দলীয় ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন না হওয়ার অভিযোগ তোলেন।

বখতিয়ার মাহমুদ তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, “স্বার্থ নয়, আদর্শের ডাকেই জীবনের সবচেয়ে সোনালি সময়টুকু উৎসর্গ করেছি এই দলের জন্য। বিদায় ছাত্রদল, আল্লাহ ভরসা।”

আব্দুস সালাম লেখেন, “যার জন্য জীবন-যৌবন, পরিবার ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে, বিদায় বলা কষ্টের। তারপরও বিদায় ছাত্রদল।”

অন্যদিকে সাইদুর রহমান শাহেদ তার পোস্টে লেখেন, “তকদীর ও তদবীরের কাছে হার মেনে প্রাণের সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল থেকে বিদায় নিলাম।”

পদত্যাগের বিষয়ে বখতিয়ার মাহমুদ বলেন, দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা ও হয়রানির শিকার হলেও নতুন কমিটিতে ত্যাগী নেতাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি।

ঝিনাইদহের রাজনৈতিক সচেতন মহলের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ছাত্রদল নেতা বখতিয়ার মাহমুদ দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনেও তিনি সম্মুখ সারিতে অংশ নিয়েছিলেন বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

এলাকাবাসীর দাবি, ২০২৩ সালের ২৫ নভেম্বর বখতিয়ার মাহমুদের পিতা মারা যান। সে সময় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় তিনি আত্মগোপনে থাকায় বাবাকে শেষবারের মতো দেখতে কিংবা কবরে মাটি দিতে পারেননি। স্থানীয় সূত্র জানায়, ওই সময় তাকে গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছিল।

এদিকে নতুন কমিটি ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা-সমালোচনা দেখা গেছে। ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যেও অসন্তোষের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। অনেকেই ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন।

তবে এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এমআর//