পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে উত্তপ্ত জাবি
সাভার প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০৩:৪১ পিএম, ১৭ মে ২০২৬ রবিবার
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের দাবি ও নিরাপত্তা ঘাটতির দায়ে প্রক্টরের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। অপরদিকে আরেক পক্ষ উপাচার্যের সাথে অসাদাচরণের জন্য মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে। পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে জাহাঙ্গীরনগর ক্যাম্পাস।
পূর্ব ঘোষণার অংশ হিসেবে আজ রোববার (১৭ মে) সকাল ১০টার দিকে আন্দোলনকারী এক পক্ষ প্রশাসনিক ভবনে তালা লাগিয়ে দেন। এসময় তারা সেখানে অবস্থান নেন এবং প্রক্টরিয়াল বডির বিরুদ্ধে দায়িত্বে ব্যর্থতার অভিযোগ তোলেন।
ধর্ষণচেষ্টার ঘটনার পর গত ৫ দিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন জাবি শিক্ষার্থীরা। তবে অভিযুক্ত এখনও গ্রেপ্তার না হওয়ায় তাদের আন্দোলন চলছে। এদিকে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে প্রশাসনকে হুঁশিয়ার দিয়েছেন জাকসু নেতারাও।
শিক্ষার্থীরা জানান, ইতিমধ্যে প্রশাসনকে নানাভাবে সময় দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাদের কাছে মনে হচ্ছে প্রশাসন এ ব্যাপারে আন্তরিক নয়। জাবি ভিসির উদ্ধৃতি দিয়ে আন্দোলনকারী এক শিক্ষার্থী আরও জানান, তিনি বলেছেন সরকারের শীর্ষ পর্যায় এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন। কিন্তু বাস্তবে আমরা তার প্রতিফলন দেখতে পাচ্ছি না। যদি তাই হতো তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এত উইং কাজ করার পরও কেন সাধারণ একজন দোষীকে গ্রেফতার করতে পারছে না। আসলেই তাদের এখানে কতটুকু স্বদিচ্ছা তা নিয়েও সন্দেহজনক প্রশ্ন তুলেন তারা।
তারা বলেন, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার ও নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে।
এ ব্যাপারে জাবি প্রক্টর অধ্যাপক ড. একেএম রাশিদুল আলম বলেন, গোয়েন্দা সংস্থাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনেক বিভাগ এ নিয়ে কাজ করছে। অবিলম্বে দোষী আইনের আওতায় আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
আরেক প্রশ্নে নিজের পদত্যাগের বিষয় উল্লেখ করে তিনি জানান, এটি সাধারণ ক্ষোভ হতে শিক্ষার্থীরা হয়তো করেছে। এছাড়াও নিরাপত্তার ব্যাপারে আর্থিক ছাড়ের বিষয়ে সরকারের উচ্চ মহলে আলোচনা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অপরদিকে দুপুরে নতুন কলাভবন থেকে একদল শিক্ষার্থী জাবি উপাচার্যকে ফ্যাসিস্ট বলে আখ্যায়িত করার প্রতিবাদে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে। এ সময় তারা ধর্ষণ চেষ্টায় জড়িতকে গ্রেফতারের দাবি তুলে বলেন, আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে একটি পক্ষ নানাভাবে চেষ্টা চালাচ্ছে। তারা উপাচার্যের সাথে যেভাবে আচরণ করেছে তা কাম্য নয়। এছাড়াও সোশ্যাল মিডিয়ায় অপরাধীর বিভিন্ন এআই ছবি দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে তারা সজাগ থাকতে আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, গত ১২ মে রাতে আবাসিক হলে ফেরার পথে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে এক বহিরাগত কর্তৃক নারী শিক্ষার্থীকে হেনস্তার ঘটনায় লাগাতার বিক্ষোভ করছে শিক্ষার্থীরা। তারা দোষীকে গ্রেফতারসহ ছয় দাবি দিয়ে ইতিমধ্যে ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়েছিল যা পেরিয়ে প্রায় একশ’ বারো ঘন্টা পার হলেও দোষী কাউকেই গ্রেফতার করতে পারেনি সংশ্লিষ্টরা।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে প্রশাসন জরুরি বৈঠকে বসে এরই মধ্যে নিরাপত্তায় ১৪টি পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও তা প্রত্যাখ্যান করে ক্যাম্পাসের প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ দাবি করে গতকাল প্রক্টর অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেয় তারা।
এরপর আজ রোববার সকালে প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।
এএইচ
