র্যাবকে শক্তিশালী করতে নতুন আইন হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ০৪:০৭ পিএম, ১৮ মে ২০২৬ সোমবার | আপডেট: ০৪:১০ পিএম, ১৮ মে ২০২৬ সোমবার
র্যাবকে এলিট ফোর্স হিসেবে পরিচালনার জন্য নতুন আইন হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, আগামী দিনে মানবাধিকার সমুন্নত রেখে র্যাব তার সব কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
সোমবার (১৮ মে) দুপুরে রাজধানীর কুর্মিটোলায় র্যাব সদর দপ্তরে র্যাবের ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে এ কথা জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “বর্তমানে র্যাব আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আইনের কিছু ধারার অধীনে পরিচালিত হচ্ছে, যা দীর্ঘদিন ধরে ‘অ্যাডহক’ ভিত্তিতে চলেছে। একটি বাহিনী এভাবে পরিচালিত হওয়া ঠিক নয়।
তিনি বলেন, ‘প্রত্যাশা অনুযায়ী জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সেজন্য একটা এলিট ফোর্স দরকার হবে। তাদের যে ইকুইপমেন্টস লজিস্টিক ট্রেনিং ফ্যাসিলিটিস, অ্যাসেটস সবকিছু সেখানে যাবে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘আগামীতে র্যাব মানবাধিকার সমুন্নত রেখে কাজ করবে। নাম পরিবর্তন হবে কি না সেটা পরে সিদ্ধান্ত হবে।’
র্যাবের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অতীতে বাহিনীটিকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। ফ্যাসিবাদী সরকার তাদের একদলীয় শাসন কায়েমের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করেছে। সে কারণেই র্যাবের ওপর যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল, যা এখনো বহাল রয়েছে।’
মন্ত্রী বলেন, “আমরা জানি, র্যাবের কিছু কর্মকর্তার কর্মকাণ্ডের কারণে প্রতিষ্ঠান হিসেবে র্যাব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মাঝে এমন কোনো প্রতিষ্ঠান ছিল না, যেগুলো ফ্যাসিবাদী শাসনামলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। পুলিশ, র্যাব, সেনাবাহিনী, বিজিবি - সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে, কয়েকজন কর্মকার্তার কর্মকাণ্ডের দায় পুরো প্রতিষ্ঠান নিতে পারে না। যারা আইনের বাইরে গিয়েছে, তাদের নিজ নিজ আইনের আওতায় এনে জবাবদিহিতার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কারণ প্রতিষ্ঠান দায়ী না, তারা ব্যক্তিগতভাবে দায়ী।”
র্যাবের জন্য নতুন আইন প্রণয়নে ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং সেই আইন তিনি নিজে তদারকি করবেন জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, "সেই আইন এখনও আমার সামনে আসেনি। এটা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা কাজ করছে।"
র্যাবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির ও র্যাব মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবীব পলাশসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এএইচ
