৪৪তম বিসিএস নন-ক্যাডার ফাইল প্রেরণে বিলম্ব, বাড়ছে প্রার্থীদের ক্ষোভ
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ০৯:৫৩ পিএম, ১৮ মে ২০২৬ সোমবার | আপডেট: ০৯:৫৪ পিএম, ১৮ মে ২০২৬ সোমবার
পিএসসি চেয়ারম্যানের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা পার হলেও ৪৪তম বিসিএস নন-ক্যাডারের ফাইল এখনও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীরা।
সোমবার (১৮ মে) দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তারা জানান, চেয়ারম্যানের আশ্বাস অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফাইল প্রেরণে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) ফাইলগুলো জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে ব্যর্থ হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ৭ মে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন ৪৪তম বিসিএস নন-ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীরা। তাদের প্রধান দাবি ছিল, অবিলম্বে ফাইল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে মে মাসের মধ্যেই পুলিশ ভেরিফিকেশন, মেডিকেল পরীক্ষা, গেজেট প্রকাশ ও নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা।
সেসময় প্রার্থীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে পিএসসি চেয়ারম্যান আশ্বাস দেন, মে মাসের মধ্যভাগের মধ্যেই ফাইলগুলো মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। তবে নির্ধারিত সময়সীমা পার হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। সুপারিশপ্রাপ্তদের অভিযোগ, ফাইল এখনও পিএসসিতেই আটকে রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রার্থীদের জানিয়েছিলেন, ফাইল “প্রসেসিং”-এর মধ্যে রয়েছে। তবে একই ধরনের ব্যাখ্যা আগেও দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন আন্দোলনকারীরা। তাদের ভাষ্য, দীর্ঘসূত্রিতা এখন আর গ্রহণযোগ্য নয়।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি পিএসসি ৪৪তম বিসিএস নন-ক্যাডারের সুপারিশ প্রকাশ করে। কিন্তু প্রায় ২ হাজার ৯৬৮ জন সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীর ফাইল এখনও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়নি। ফলে পুলিশ ভেরিফিকেশন, মেডিকেল পরীক্ষা ও গেজেট প্রকাশের মতো গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলো শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না।
প্রার্থীদের দাবি, সাধারণত ফল প্রকাশের ১৫ থেকে ৩৫ দিনের মধ্যেই এসব ফাইল মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। কিন্তু এবার অস্বাভাবিক বিলম্বের কারণে ভবিষ্যতে জ্যেষ্ঠতা (সিনিয়রিটি) জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
তাদের অভিযোগ, ইতোমধ্যে ৪৫তম বিসিএস নন-ক্যাডারের মেডিকেল পরীক্ষার সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। অথচ ৪৪তম বিসিএসের ফাইল এখনও পিএসসিতে পড়ে আছে। এতে ৪৫তম বিসিএসের প্রার্থীরা আগে চাকরিতে যোগ দিলে প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।
এর আগে পিএসসির জনসংযোগ কর্মকর্তা এস এম মতিউর রহমান গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, সুপারিশপ্রাপ্তদের তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে। বিশেষ করে টেকনিক্যাল নন-ক্যাডার পদের তথ্য যাচাইয়ে অতিরিক্ত সময় লাগছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। যাচাই প্রক্রিয়া শেষ হলেই ফাইল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।
তবে আশ্বাসের পরও বাস্তব অগ্রগতি না হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছেন প্রার্থীরা। তারা বলছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ৩০ নভেম্বর ৪৪তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। পরে ২০২২ সালের জুনে প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় এবং একই বছরের ডিসেম্বর থেকে ২০২৩ সালের জানুয়ারির মধ্যে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয় ২০২৪ সালের ৩ এপ্রিল। দীর্ঘ নিয়োগ প্রক্রিয়া ও একাধিক সংশোধনের পর অবশেষে ২০২৬ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি নন-ক্যাডার সুপারিশ প্রকাশ করা হয়।
এমআর//
