অভিযুক্ত গ্রেপ্তার দাবিতে জাবিতে জাকসুর বিক্ষোভ ও মহাসড়ক অবরোধ
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ১১:০৭ পিএম, ১৮ মে ২০২৬ সোমবার
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এক নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় অভিযুক্তকে এখনও গ্রেপ্তার করতে না পারার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে প্রতীকী অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন জাকসু নেতৃবৃন্দ।
সোমবার (১৮মে) বিকেলে ক্যাম্পাসের ডেইরি গেট সংলগ্ন মহাসড়কে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।
এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার সংলগ্ন রাস্তা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়, যা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মহাসড়কে গিয়ে শেষ হয়। কর্মসূচিতে জাকসুর নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বিভিন্ন বিভাগের সাধারণ শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
ঘটনার ছয় দিন পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে না পারায় সমাবেশে ক্ষোভ প্রকাশ করেন জাকসু নেতৃবৃন্দ। এসময় তারা অভিযুক্তকে অবিলম্বে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। অন্যথায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারিও দেন তারা।
সমাবেশে জাকসুর জিএস মাজহারুল ইসলাম আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘দেশে এর চেয়েও অনেক বড় ঘটনা ঘটে, যেখানে অপরাধীদের খুব দ্রুতই গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু এই ঘটনায় আমরা দেখতে পাচ্ছি, অপরাধীর সম্পূর্ণ ফুটেজ থাকার পরও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করতে ব্যর্থ হয়েছে। আমাদের কাছে মনে হচ্ছে, এটি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চরম ব্যর্থতা।’
ক্যাম্পাসের চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে তিনি আরও বলেন, ‘এই বিচারের প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য ক্যাম্পাসের কিছু শিক্ষক সিন্ডিকেট এবং একই সঙ্গে কিছু মহল অন্যায়ভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক, সাধারণ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ওপর আক্রমণাত্মক আচরণ করছে। আমরা মনে করছি, এটি স্বাভাবিক বিচারিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার একটি অপচেষ্টা।’
মিছিল-পরবর্তী সমাবেশে জাকসুর ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘জাবি শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার মতো ন্যক্কারজনক ঘটনার প্রায় দেড়শ ঘণ্টা পার হতে চললেও রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখনো নীরব ভূমিকা পালন করছে। পুলিশ প্রশাসন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যদি দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে ব্যর্থ হয়, তবে আমরা পরবর্তীতে আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।’
ক্যাম্পাসের পরিবেশ বিনষ্টকারীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, এই ক্যাম্পাসে কেউ যদি তাদের দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বিনষ্ট করতে আসে, তাহলে আমরা তা মেনে নেব না। আজকে যেমন ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে আমরা এখানে এসেছি, ঠিক একইভাবে যারা ক্যাম্পাসের সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করার পাঁয়তারায় লিপ্ত হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেও আমরা একইভাবে রুখে দাঁড়াব।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (১২ মে) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হলের পাশের রাস্তায় এক নারী শিক্ষার্থীকে টেনেহিঁচড়ে জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণ ও হত্যার চেষ্টা করে এক বহিরাগত। এঘটনায় আশুলিয়া থানায় মামলা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এমআর//
