ঢাকা, বুধবার   ২০ মে ২০২৬,   জ্যৈষ্ঠ ৫ ১৪৩৩

মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর ছবি না থাকায় হট্টগোল, তোপের মুখে ফিরে গেলেন সেতুমন্ত্রী

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৮:৪৯ পিএম, ১৯ মে ২০২৬ মঙ্গলবার | আপডেট: ০৮:৫১ পিএম, ১৯ মে ২০২৬ মঙ্গলবার

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বগা ফেরিঘাট এলাকায় লোহালিয়া নদীর ওপর প্রস্তাবিত বহুল প্রত্যাশিত বগা সেতুর সম্ভাব্যতা যাচাই পরিদর্শনে গিয়ে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের উত্তেজনার মুখে পড়েন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

প্রায় ৪৫ মিনিট ফেরিঘাট এলাকায় অবরুদ্ধ থাকার পর তিনি নির্ধারিত সভাস্থলে না গিয়ে এলাকা ত্যাগ করেন। মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুর ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী মঙ্গলবার দুপুরে সেতুমন্ত্রী পটুয়াখালীর দুমকি ও বাউফল উপজেলার সংযোগস্থল লোহালিয়া নদীর বগা ফেরিঘাট এলাকায় পৌঁছান। তাঁকে ঘিরে নদীর পূর্বপাড়ে সভার আয়োজন করেন পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের জামায়াত-সমর্থিত সংসদ সদস্য ডা. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। সভাস্থলে সকাল থেকেই বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল।

স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, সভাস্থলের ব্যানার ও ফেস্টুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি না থাকায় তাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে মন্ত্রীকে বহনকারী গাড়িবহর ফেরি পার হয়ে সভাস্থলের দিকে অগ্রসর হলে একদল বিএনপি সমর্থক গাড়িবহর ঘিরে বিক্ষোভ শুরু করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এ সময় বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি স্লোগান, হট্টগোল ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা ধরে মন্ত্রী কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন। পরে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কায় তিনি সভাস্থলে না গিয়ে একই ফেরিতে পশ্চিমপাড়ের দুমকি উপজেলার চরগরবদী এলাকায় ফিরে যান।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী, জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি, সংসদ সদস্য ডা. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এবং বাউফলের সাবেক বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য শহীদুল আলম তালুকদারসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা।

পরে দুমকি উপজেলার ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা মাঠে বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দেন সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন আলতাফ হোসেন চৌধুরী।

সমাবেশে মন্ত্রী বলেন, “বাউফলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আদিরা বিনতে মাহামুদের লেখা একটি চিঠি ও ভিডিওচিত্র একটি বেসরকারি টেলিভিশনে প্রচারিত হওয়ার পর বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন। এরপর সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে বগা সেতু প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “সবকিছু অনুকূলে থাকলে চলতি বছরের শেষ দিকে অথবা আগামী বছরের শুরুতেই বগা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করা সম্ভব হবে।”

সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক ডা. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী, জেলা পুলিশ সুপার মো. আবু ইউসুফ, জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

স্থানীয়দের দাবি, বগা ফেরিঘাটে প্রতিদিন হাজারো মানুষ দুর্ভোগ পোহান। বর্ষা মৌসুমে নদী পারাপারে ঝুঁকি ও দীর্ঘ যানজটের কারণে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি হয়ে উঠেছে বগা সেতু নির্মাণ। সংশ্লিষ্টদের মতে, সেতুটি বাস্তবায়িত হলে বাউফল, দুমকি ও আশপাশের কয়েকটি উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।

উল্লেখ্য, বাউফলের লোহালিয়া নদীর ওপর ‘বাংলাদেশ-চীন নবম মৈত্রী সেতু’ নির্মাণের পরিকল্পনা আগের সরকারের আমলে নেওয়া হয়েছিল। প্রাথমিক সমীক্ষা ও নকশা প্রণয়নের আলোচনা এগোলেও ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রকল্পটির অগ্রগতি থমকে যায়। নতুন করে সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে আবারও আশার সঞ্চার হয়েছিল। তবে মঙ্গলবারের রাজনৈতিক উত্তেজনার ঘটনায় সেই উদ্যোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

এমআর//