সাবেক স্ত্রীকে ফের বিয়ের প্রলোভনে জোরপূর্বক ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ১
গাইবান্ধা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১২:৫০ পিএম, ২৫ মে ২০২৬ সোমবার
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সাবেক স্ত্রীকে পুনরায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর মামলার প্রধান আসামি আল আমিনকে (২৪) গ্রেফতার করেছে র্যাব।
সোমবার (২৫ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী।
এর আগে গত ২৩ মে বিকালে র্যাব-১৩ ও র্যাব-৪ এর একটি যৌথ আভিযানিক দল ঢাকার আশুলিয়ার কাঠগড়া বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত আল আমিন গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামের শাহজাহান আলীর ছেলে।
র্যাব-১৩ গাইবান্ধা ক্যাম্পের পক্ষ থেকে বলা হয়, ভিকটিমের সাথে গত ১৫/১২/২০২৪ তারিখে ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক আল আমিনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে ভিকটিমের ওপর বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল সে। একপর্যায়ে ভিকটিমের পরিবার যৌতুক দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে গত ১৯/১০/২০২৫ তারিখে আল আমিন একতরফাভাবে ভিকটিমকে তালাক প্রদান করে।
বিবাহ বিচ্ছেদের কিছুদিন পর আল আমিন নিজের ভুল স্বীকার করে এবং ভিকটিমকে পুনরায় বিয়ে করার আশ্বাস দিয়ে যোগাযোগ শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায়, বিয়ের কথা বলে আল আমিন ভিকটিমকে তার এক সহযোগীর খালার বাসায় নিয়ে যান। সেখানে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ভিকটিমের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়।
পরবর্তীতে ভিকটিম বিয়ের জন্য চাপ দিলে আল আমিন বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানায়। এ ঘটনায় ভিকটিম নিজে বাদী হয়ে গত ০৫/০৫/২০২৬ তারিখে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-০৯)।
র্যাব আরও জানায়, ঘটনার পর থেকেই আসামিরা গ্রেফতার এড়াতে চতুরতার সাথে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপন করেছিল। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় র্যাব ছায়া তদন্ত ও গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে। এরই প্রেক্ষিতে র্যাব-১৩, সিপিসি-৩ (গাইবান্ধা) এবং র্যাব-৪, সিপিসি-২ (নবীনগর, সাভার) এর আভিযানিক দল আশুলিয়া থেকে প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
র্যাব-১৩ কোম্পানির সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী বলেন, গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এএইচ
