ঢাকা, বুধবার   ২৭ মে ২০২৬,   জ্যৈষ্ঠ ১৩ ১৪৩৩

ঈদযাত্রায় ২৬ রুটের বাসে ৫ কোটি ৬২ লাখ টাকা বাড়তি বাড়া আদায়

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৪:০০ পিএম, ২৭ মে ২০২৬ বুধবার

পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন সড়ক ও নৌপথে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

সংগঠনটির দাবি, বাস মালিক সমিতির প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে রাজধানীসহ সারাদেশে সিটি সার্ভিস ও দূরপাল্লার বাসে ভাড়া নৈরাজ্য চলছে।

বুধবার (২৭ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী এ তথ্য জানান।

সংগঠনটির পর্যবেক্ষণে বলা হয়, এবারের ঈদযাত্রায় যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় না করার ঘোষণা দিয়েছিল বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি। তবে বাস্তবে সেই ঘোষণা উপেক্ষা করে বিভিন্ন রুটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির দাবি, পরিবহন শ্রমিকদের বেতন ও ঈদ বোনাস কার্যকর না থাকায় অনেক চালক ও তাদের সহকারীরা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ে বাধ্য হচ্ছেন। 

সংগঠনটির তথ্যমতে, দেশের প্রায় সাড়ে আটশ দূরপাল্লার রুটের মধ্যে ২৭টি রুট পর্যবেক্ষণ করা হয়। এর মধ্যে ২৬টি রুটে প্রায় ২ লাখ ৩৪ হাজার যাত্রীর কাছ থেকে অতিরিক্ত ৫ কোটি ৬১ লাখ ৯৩ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে।

সমিতির হিসাবে, এবারের ঈদে ঢাকা থেকে প্রায় ৯৫ লাখ যাত্রী দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াত করছেন। এছাড়া আন্তঃজেলায় আরও প্রায় ৩ কোটি ট্রিপ যাত্রী চলাচল করতে পারে।

পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ঢাকা-খুলনা রুটে ৫৪১ টাকার ভাড়া আদায় করা হচ্ছে ১ হাজার টাকা। ঢাকা-বরিশাল রুটে ৫৯২ টাকার ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ৮৫০ টাকা। একই রুটে বিআরটিসির দোতলা বাসে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ৭০০ টাকা।

এছাড়া ঢাকা-পটুয়াখালী রুটে ৫৭০ টাকার ভাড়া ১ হাজার টাকা, ঢাকা-শরীয়তপুর রুটে ২৩৩ টাকার ভাড়া ৫০০ টাকা, চট্টগ্রাম-বরগুনা রুটে ১ হাজার ১৯৭ টাকার ভাড়া ১ হাজার ৮০০ টাকা এবং ঢাকা-মাদারীপুর রুটে ২৫০ টাকার ভাড়া ৫০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এছাড়া ঢাকা-গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, যশোর, শিবচর, ঝালকাঠি, ঝিনাইদহ, মাগুরা, কুষ্টিয়া, দিনাজপুর, ফেনী, কুমিল্লা, টেকেরহাট, পিরোজপুরসহ বিভিন্ন রুটেও নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি আদায়ের অভিযোগ তুলেছে সংগঠনটি।

পর্যবেক্ষণে আরও দেখা গেছে, ৫২ আসনের বাসে জালিয়াতির মাধ্যমে ৪০ আসনের ভাড়ার তালিকা টানানো হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে স্বল্প দূরত্বের যাত্রীদের কাছ থেকেও শেষ গন্তব্যের ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতি বলছে, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কারণে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, পরিবহনে চাঁদাবাজি, সামাজিক অস্থিরতা, অনিয়ম-দুর্নীতি ও সড়ক দুর্ঘটনা বাড়ছে। নিম্নআয়ের মানুষ বাধ্য হয়ে বাস ও ট্রেনের ছাদে কিংবা পণ্যবাহী ট্রাকে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন।

যাত্রী কল্যাণের দাবি, এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে গণপরিবহনে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভাড়া আদায় চালু, নগদ লেনদেন বন্ধ, চালকদের বেতন-ভাতা ও ঈদ বোনাস কার্যকর, মহাসড়কে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে ই-প্রসিকিউশন চালু এবং ঈদযাত্রা মনিটরিং কমিটিকে সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন করার সুপারিশ করেছে সংগঠনটি।

এমআর//