কথিত ৪শ’ বছর বয়সী ‘জিনের বাদশা’ গ্রেপ্তার
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০৩:৪৩ পিএম, ২ জুন ২০২৬ মঙ্গলবার
অনলাইন অ্যাপসহ সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে বিপুল অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেয়া এক প্রতারক ‘জিনের বাদশা’কে আটক করেছে পুলিশ। অভিযোগ রয়েছে, টাকা ফেরত চাইলে তিনি নিজেকে ৪শ’ বছর বয়সী ‘জিনের বাদশা’ পরিচয় দিয়ে ভুক্তভোগীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করতেন।
মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরে সিরাজগঞ্জ সদর থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ এ তথ্য জানায়।
প্রায় ২১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মো. আব্দুল হামিদ (৩৩) নামে আটক ওই জিনের বাদশা সলঙ্গা থানার বনবাড়িয়া গ্রামের মৃত আব্দুল করিমের ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গতকাল ১ জুন মোছা. মমতাজ বেগম (৩১) সদর থানায় একটি প্রতারণার মামলা দায়ের করেন। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, কয়েক মাস আগে আব্দুল হামিদ ‘ইকো ভোল্ট’ নামের একটি অনলাইন সোলার প্যানেল বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্মে অর্থ বিনিয়োগ করলে বেশি লাভ পাওয়া যাবে বলে বিভিন্ন ব্যক্তিকে উৎসাহিত করেন। তার কথায় বিশ্বাস করে প্রায় ১০০ জন বিনিয়োগকারী সেখানে টাকা জমা দেন।
তদন্তে জানা গেছে, প্রথম ধাপে তিনি প্রায় ১১ লাখ টাকা সংগ্রহ করেন। পরে ‘সিইএফ’ নামে আরেকটি অ্যাপে বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়ে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে আরও প্রায় ৬ লাখ টাকা নেন। এরপর আগের অ্যাপটি অকার্যকর হয়ে গেলে নতুন করে অধিক মুনাফার আশ্বাস দিয়ে আরও ৪ লাখ টাকা সংগ্রহ করেন। সব মিলিয়ে প্রায় ২১ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতুর নির্দেশনায় অভিযান চালিয়ে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সলঙ্গা থানার বনবাড়ীয়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি প্রতারণার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তার কাছ থেকে একটি ওয়ালটন ট্যাবলেট, একটি স্মার্টফোন এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রচারসামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানান, আব্দুল হামিদ বিভিন্ন সময়ে নতুন নতুন অ্যাপ চালু করে উচ্চ মুনাফার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করতেন। কিছুদিন পর অ্যাপ বন্ধ করে আবার নতুন অ্যাপের মাধ্যমে বিনিয়োগের আহ্বান জানাতেন।
আরও জানা যায়, টাকা ফেরত চাইলে তিনি ‘Hamkail Moakael’ নামে একটি টেলিগ্রাম আইডি ব্যবহার করে নিজেকে জিনের বাদশা দাবি করতেন এবং ভুক্তভোগীদের ভয়ভীতি ও হুমকি দিতেন।
মামলার বাদী মমতাজ বেগম বলেন, তার নেতৃত্বাধীন একটি টিমের প্রায় ১০০ জন সদস্য ওই অ্যাপগুলোতে বিনিয়োগ করেছিলেন। পরে অ্যাপগুলো অচল হয়ে গেলে প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি থানায় অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাজরান রউফ বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি একাধিক অ্যাপ ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। এছাড়া ভুয়া পরিচয়ে নিজেকে শত শত বছরের পুরোনো জিনের বাদশা দাবি করে মানুষকে ভয় দেখানোরও প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. হাফিজুর রহমান, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল হাসানসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তিদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে।
এএইচ
