রামিসা হত্যা: আদালতে সোহেল-স্বপ্না দম্পতি, আত্মপক্ষ শুনানি আজ
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ১০:২৭ এএম, ৩ জুন ২০২৬ বুধবার | আপডেট: ১০:৩৭ এএম, ৩ জুন ২০২৬ বুধবার
আদালতে আনা হয়েছে শিশু রামিসা হত্যার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে। আজ আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাবেন আসামিরা।
বুধবার সকালে সোহেলকে কেরানীগঞ্জ কারাগার ও স্বপ্নাকে কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়।
তাদেরকে রাখা হয়েছে মহানগর হাজতখানায়। সকাল ১০টায় তাদের এজলাসে তোলা হবে। এরপর ৩৪২ ধারায় তাদের আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
এর আগে মঙ্গলবার একদিনেই সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করে ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল। সাক্ষ্য দেন রামিসার বাবা, মা, বোন ও তদন্ত কর্মকর্তাসহ ১৬ জন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী দাবি করেন, সাক্ষীদের জবানবন্দিতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের পর উভয়পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনেরও সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর জানা যাবে এই মামলার রায়ের তারিখ।
গেল ২৪ মে আদালতে এই মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা। অভিযোগপত্রে সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণ-হত্যা ও তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে অপরাধে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হলে স্বপ্না তাকে কৌশলে রুমের ভেতরে নেয়। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন তার মা। একপর্যায়ে আসামির রুমের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তিনি। ডাকাডাকির পর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং মাথা রুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে দেখতে পান।
জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় ২০ মে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আসামি করা হয়। পরে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে। গত ২০ মে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা (৩০) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদের আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। একই দিন আদালত সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও (২৬) কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এএইচ
