স্বর্ণের কলসের লোভে নাসিমাকে হত্যা করে তান্ত্রিক, রহস্য উদঘাটন
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১০:৫৯ এএম, ৩ জুন ২০২৬ বুধবার
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার ভাতুড়িয়া এলাকায় জনমানবহীন স্থান থেকে উদ্ধার হওয়া এক নারীর মরদেহের রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। স্বর্ণের কলসি ও পুতুল পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে নাসিমা আক্তার নামে ৩৬ বছর বয়সী এক গৃহবধূকে হত্যা করে সামশুল হক নামে স্থানীয় এক তান্ত্রিক।
মঙ্গলবার (২ জুন) রাত সাড়ে আটটায় ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সভাকক্ষে এক প্রেস বিফ্রিংয়ে এসব কথা জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খোদাদাদ হোসেন।
গত সোমবার ১ জুন সকালে একটি অর্ধপোড়া মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয়রা। ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ মরদেহের গলায় রশির দাগ এবং আশপাশে হত্যার বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় মরদেহটি শনাক্ত করা হয়।
প্রেস বিফ্রিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসেনের নির্দেশনায় তদন্ত শুরু করে জেলা পুলিশ। তদন্তে নিহতের ১২ বছর বয়সী মেয়ের দেওয়া তথ্য, অর্থ লেনদেনের তথ্য এবং প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের সূত্র খুঁজে পায় পুলিশ।
এ ঘটনায় ওইদিনই কবিরাজ মো. সামশুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন আলামত ও অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে এবং নাসিমার দেওয়া ৩০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয় কবিরাজের কাছে থেকে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ঘটনার দিন নাসিমা কবিরাজকে বলেন, সেদিন যেন তিনি স্বর্ণের কলসি বা স্বর্ণের পুতুল ছাড়া বাড়ি না ফেরেন। যেকোনো উপায়ে সেদিনই তাকে স্বর্ণ দিতে হবে বলে চাপ দেন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় কবিরাজ পূর্বপরিকল্পিতভাবে নাসিমাকে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে তন্ত্র-মন্ত্রের আচার পালনের কথা বলে তার গলায় দড়ি পেঁচিয়ে টান দেন। একপর্যায়ে শ্বাসরোধে নাসিমার মৃত্যু হলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
পরে ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে ও আলামত নষ্টের উদ্দেশ্যে কবিরাজ দিয়াশলাইয়ের কাঠি দিয়ে নাসিমার বোরখায় আগুন ধরিয়ে দেন। তবে আগুন পুরোপুরি ছড়িয়ে পড়ার আগেই নিভে যায়। এ কারণেই মরদেহের পেছনের অংশে দগ্ধ হওয়ার চিহ্ন পাওয়া যায়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, অভিযুক্ত কবিরাজ দীর্ঘদিন ধরে স্বর্ণ পাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিতেন। প্রাথমিক তদন্তে এমন একাধিক প্রতারণার তথ্য পাওয়া গেছে।
গ্রেপ্তার সামশুল হক হরিপুর উপজেলার টেঙরিয়া মকবুল পাড়া গ্রামের মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রায় ক্লুলেস অবস্থায় শুরু হওয়া এই মামলার রহস্য মাত্র ২০ ঘণ্টার মধ্যে উদঘাটন করা সম্ভব হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের আরও বিস্তারিত তথ্য উদঘাটনে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলেও জানানো হয়।
এএইচ
