ঢাকা, বুধবার   ০৩ জুন ২০২৬,   জ্যৈষ্ঠ ২০ ১৪৩৩

রামিসা হত্যা: আত্মপক্ষ শুনানিতে সোহেল-স্বপ্না যা বললেন

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৩:১৮ পিএম, ৩ জুন ২০২৬ বুধবার

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে আট বছরের শিশু রামিসাকে হত্যা মামলায় আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানি শেষ হয়েছে। আদালতে প্রধান আসামি সোহেল রানা অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন। অন্যদিকে মামলার আরেক আসামি সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তার নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।

বুধবার (৩ জুন) ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটির আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। 
শুনানিতে বিচারক মামলার অভিযোগ ও সাক্ষীদের জবানবন্দি দুই আসামির সামনে পড়ে শোনান এবং তাদের বক্তব্য জানতে চান।

এরআগে সকালে সোহেল ও স্বপ্নাকে কারাগার থেকে আদালত প্রাঙ্গণে এনে আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। বেলা পৌনে ১১টার দিকে সোহেলকে, আর বেলা ১১টার দিকে স্বপ্নাকে হাজতখানা থেকে আদালতে তোলা হয়। ১১টা ১০ মিনিটে বিচারক এজলাসে আসার পর বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।

কোনো বক্তব্য আছে কিনা, তা জানতে চাওয়া হলে সোহেল কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বলেন, ‘আমি নির্দোষ, স্যার। আমার সঙ্গে যে ছিল ডলার, তারে আপনারা ধরেন। আমি দোষ করি নাই তা না, আমিও দোষ করেছি, ডলারও দোষ করেছে।...আমারে মাফ করে দেন, আমার একটা ছোট ছাওয়াল আছে।’

এ সময় স্ত্রী স্বপ্নার বিষয়ে আসামি সোহেল বলেন, ‘আমার বউটা একদম নির্দোষ স্যার।’ এ সময় বিচারক তাকে থামিয়ে বলেন আপনারটা আপনি বলেন। এরপর সোহেল নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।

এরপর স্বপ্নার বক্তব্য শুনতে চান আদালত। স্বপ্না আদালতকে বলেন, ‘আমি কিছু করি নাই, আমি নির্দোষ।’ 

এ সময় আদালত তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, দরজা কেন খুলেননি এর কোনো ব্যাখ্যা দিতে চান কিনা। তাকে সতর্ক করে আদালত বলেন, আপনার স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে যে শাস্তি তার হবে একই শাস্তি আপনারও হবে। এরপর স্বপ্না আবারও বলেন, ‘স্যার আমি নির্দোষ, আমি কিছু করিনি।’

তবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের মতে, আসামিদের এই ধরনের বক্তব্য বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত ও বিলম্বিত করার অপকৌশল।

এদিকে রাষ্ট্র নিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী মুসা কলিমুল্ল্যাহ জানান, নিজেদের নির্দোষ প্রমাণে নতুন করে কোনো সাফাই সাক্ষী হাজির করবেন না তারা।
 
আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানি শেষে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু আগামীকাল বৃহস্পতিবার যুক্তিতর্কের জন্য দিন নির্ধারণের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।

এর আগে মঙ্গলবার (২ জুন) রামিসার বাবা, মা, বোন, স্বজন, প্রতিবেশী প্রত্যক্ষদর্শী ও তদন্ত কর্মকর্তাসহ ১৬ জন সাক্ষ্য দেন। এরপর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ করার নিবেদন জানান রাষ্ট্রপক্ষ। আবেদন মঞ্জুর করে আদালত আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন ও ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আজ দিন ধার্য করেন।

গতকাল এ মামলায় চার্জশিটভুক্ত ১৮ সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের জবানবন্দি রেকর্ড করে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করেন আদালত। 

এর আগে গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীর একটি বাসা থেকে আট বছরের শিশু রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ফ্ল্যাটটিতে বসবাসকারী সোহেল রানা ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতের কাছে ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করেন সোহেল।

এ ঘটনায় ২০ মে ভিকটিমের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

এএইচ