ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৪ জুন ২০২৬,   জ্যৈষ্ঠ ২১ ১৪৩৩

ইরান যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে মার্কিন কংগ্রেসে প্রস্তাব পাস

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১১:১৪ এএম, ৪ জুন ২০২৬ বৃহস্পতিবার

ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিরত রাখার লক্ষ্যে দেশটির কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভ বা প্রতিনিধি পরিষদ একটি প্রস্তাব পাস করেছে।

ইরান ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবটি বুধবার হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভে সাত ভোট বেশি পেয়ে পাস হয়েছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের বিষয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেন নিম্নকক্ষের সদস্যরা, যাদের মধ্যে ট্রাম্পের নিজের দল রিপাবলিকান পার্টির জনপ্রতিনিধিরাও রয়েছেন।

এর মধ্যে অন্তত চারজন রিপাবলিকান সদস্য ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে সমর্থন দেওয়ার পর মোট ২১৫ ভোট পেয়ে নতুন বিলটি পাস হয়। অন্যদিকে, বিলের বিপক্ষে ভোট পড়েছিল ২০৮টি।

তবে, বিল পাস হলেও সেটি বাস্তবায়ন করতে হলে এখনও মার্কিন সিনেটের অনুমোদন প্রয়োজন হবে,আর সিনেট বর্তমানে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

সবমিলিয়ে নতুন প্রচেষ্টাটি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণকে সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে কী-না, সেটি এখুনি নিশ্চিত বলা যাচ্ছ না।

ট্রাম্প এই বিলটিতে ভেটো দিতে পারেন, যা বাতিল করতে মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে হবে।

এর আগেও সাতবার ব্যর্থ চেষ্টার পর গত মে মাসে মার্কিন সিনেটে এরকম আরেকটি বিল উঠতে দেখা গিয়েছিল। কিন্তু সেটি নিয়ে এখনও পূর্ণাঙ্গ ভোটাভুটি হয়নি।

হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভের যে চারজন রিপাবলিকান সদস্য বিল পাস করানোর জন্য বুধবার ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে একজোট হয়েছেন, তারা হলেন - টমাস ম্যাসি, ব্রায়ান ফিটজপ্যাট্রিক, টম ব্যারেট এবং ওয়ারেন ডেভিডসন।

এছাড়া মেইনের ডেমোক্র্যাট সদস্য জ্যারেড গোল্ডেন, যিনি এর আগে এই ধরনের প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছিলেন, তিনি এবার ইরান যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন।

মার্কিন নিম্নকক্ষের অনেক সদস্য যুদ্ধে জড়ানোর বিপক্ষে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করে বক্তব্যও দিয়েছেন।

‘কংগ্রেস একাই যুদ্ধ ঘোষণা করে, এটা এমন একটা বিষয় যা নিয়ে আমাদের অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে’ বলেছেন মিশিগানের রিপাবলিকান সদস্য ব্যারেট।

ক্ষমতাসীন দলের নেতা হয়েও মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিপক্ষে ভোট দিয়ে তিনি ট্রাম্পের চক্ষুশূল হলেন কি-না এবং সেটি নিয়ে তিনি চিন্তিত কিনা, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ব্যারেট বলেন, ‘আমার বিবেক যা বলেছে, আমি সেটি অনুযায়ী ভোট দিয়েছি। আমি এটাকেই সঠিক বলে মনে করি এবং সেজন্য এর দায়ভার নিতেও প্রস্তুত আছি।’

বুধবারের এই ভোটাভুটিতে যা দেখা গেছে, সেটি ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির ভেতরের মতবিরোধকে আবারও সামনে এনেছে বলে মনে করছেন অনেকে।

নিজ দলের সদস্যরা বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ায় মাত্র কয়েকদিন আগেই ট্রাম্প প্রশাসন তাদের রাজনৈতিক মিত্রদের জন্য এক দশমিক আট বিলিয়ন ডলারের একটি 'অস্ত্রবিরোধী' তহবিল গঠনের পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়।

মার্কিন হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির প্রধান ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি গ্রেগরি মিকস এই ভোটাভুটিকে ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ইরানে চালানো অবৈধ ও ব্যয়বহুল যুদ্ধের বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

স্থায়ীভাবে যুদ্ধটি শেষ করার লক্ষ্যে এটি ‘প্রথম পদক্ষেপ’ বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। মিকস বলেছেন, ট্রাম্প যুদ্ধের ঘোষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ তো হয়েছেনই, উপরন্তু বিশ্ব বাজারে জ্বালানির দাম বাড়িয়েছেন।

ডেমোক্র্যাট এই নেতা এটাও মনে করেন যে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যে কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা চালাচ্ছে, যুদ্ধের কারণে সেটি অর্জন করাও আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, ‘এই (প্রস্তাবটি) পাস হওয়ার বিষয়টি একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণের ইঙ্গিত দেয়: আরও অধিক সংখ্যক রিপাবলিকান তাদের ভোটারদের কথা শুনছেন, যারা মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি অনির্দিষ্টকালের যুদ্ধ চান না।’

মার্কিন হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির প্রধান ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি গ্রেগরি মিকস এই ভোটাভুটিকে "প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ইরানে চালানো অবৈধ ও ব্যয়বহুল যুদ্ধের বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ" হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

স্থায়ীভাবে যুদ্ধটি শেষ করার লক্ষ্যে এটি ‘প্রথম পদক্ষেপ’ বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

মিকস বলেছেন, ট্রাম্প যুদ্ধের ঘোষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ তো হয়েছেনই, উপরন্তু বিশ্ব বাজারে জ্বালানির দাম বাড়িয়েছেন।

ডেমোক্র্যাট এই নেতা এটাও মনে করেন যে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যে কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা চালাচ্ছে, যুদ্ধের কারণে সেটি অর্জন করাও আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

সূত্র: বিবিসি

এএইচ