গোপালপুরে উত্তেজনা অব্যাহত, ১৪৪ ধারার পরও অগ্নিসংযোগ
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ০৫:২৯ পিএম, ৫ জুন ২০২৬ শুক্রবার | আপডেট: ০৫:৩২ পিএম, ৫ জুন ২০২৬ শুক্রবার
টাঙ্গাইলের গোপালপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন।
একই সঙ্গে মাইকিং করে দ্বিতীয় দফায় সহিংসতার ডাক দেওয়ার অভিযোগে এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
শুক্রবার (৫ জুন) সকাল থেকে গোপালপুর উপজেলার নলীন বাজার ও গোলপেঁচা এলাকা এবং ভূঞাপুর উপজেলার জগৎপুরা গ্রামে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন জানায়, বৃহস্পতিবার রাতের সংঘর্ষে একজন নিহত হওয়ার পাশাপাশি ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরে গোপালপুর অংশের কিছু লোকজন মাইকিং করে দ্বিতীয় দফায় সহিংসতার ডাক দেয় বলে অভিযোগ ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার পর গোপালপুর ও ভূঞাপুর উপজেলা প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে। রাত থেকেই ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।
তবে ১৪৪ ধারা জারির পরও এলাকায় উত্তেজনা প্রশমিত হয়নি। স্থানীয়দের দাবি, দুই পক্ষই বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে পুনরায় সংঘর্ষের প্রস্তুতি নিচ্ছে। শুক্রবার সকালে ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে অন্তত তিনটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, দোকানে বাকি খাওয়াকে কেন্দ্র করে গত ২২ এপ্রিল গোপালপুর উপজেলার গোলপেঁচা ও ভূঞাপুর উপজেলার জগৎপুরা গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। সেই বিরোধের জের ধরেই বৃহস্পতিবার বিকেলে দুই গ্রামের লোকজন আবারও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের সময় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে উভয় পক্ষ দফায় দফায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালায়। এতে কালাম তালুকদারসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। পরে তাদের ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক কালাম তালুকদারকে মৃত ঘোষণা করেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষে অন্তত ১০টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহবুব হাসান বলেন, “প্রথমে দুই গ্রামের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলেও তা এখন আশপাশের একাধিক এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ১৪৪ ধারা জারির পরও অগ্নিসংযোগ ও সংঘর্ষের ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত। সবাইকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।”
তিনি আরও বলেন, তুলনামূলকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য সংখ্যা কম হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
এমআর//
