ঢাকা, শুক্রবার   ১২ জুন ২০২৬,   জ্যৈষ্ঠ ২৯ ১৪৩৩

অর্থপাচারকারীদের শান্তিতে থাকতে দেবো না, যে দেশেই যাক: গভর্নর

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৬:২৭ পিএম, ১২ জুন ২০২৬ শুক্রবার

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেছেন, যারা দেশের টাকা চুরি করে বিদেশে নিয়ে গেছে, তাদের আমরা শান্তিতে থাকতে দেবো না। ইতোমধ্যে কিছু সম্পদ ফ্রিজ করা হয়েছে। পাচারকারীদের শনাক্ত ও সম্পদ উদ্ধারে যৌথ তদন্ত দল নিয়মিত কাজ করছে।

শুক্রবার (১২ জুন) বিকালে বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গভর্নর এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন।

তিনি বলেন, যারা দেশের টাকা চুরি করে বিদেশে নিয়ে গেছে, তাদের আমরা শান্তিতে থাকতে দেবো না। তারা যে দেশেই যাক, যেখানেই থাকুক, আমরা তাদের অনুসরণ করে যাব। ইতোমধ্যে কিছু অর্থ উদ্ধারের ক্ষেত্রেও প্রাথমিক সাফল্য এসেছে, যা সময়মতো বিস্তারিত জানানো হবে।

গভর্নর বলেন, বিশ্বব্যাপী পাচার হওয়া সম্পদ উদ্ধারের সাফল্যের হার দুই শতাংশেরও কম এবং এ ধরনের প্রক্রিয়ায় সাত থেকে ১০ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। কিন্তু তাই বলে আমরা চেষ্টা বন্ধ করব না।

তিনি জানান, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় বিদেশে থাকা কিছু সম্পদ ইতোমধ্যে ফ্রিজ করা হয়েছে। অর্থ পাচারকারীদের শনাক্ত ও সম্পদ উদ্ধারে যৌথ তদন্ত দলও নিয়মিত কাজ করছে।

গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেন, প্রথম কাজ হচ্ছে ব্যাংকিং ব্যবস্থা স্থিতিশীল করা। অনেকেই বিভিন্ন কথা বলছেন, তবে বাস্তবতা হলো পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক আগে থেকেই সমস্যাগ্রস্ত ছিল। গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর আগের সরকার একটি স্কিম করে গেছে, সেই অনুযায়ী এখন পেমেন্ট দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, তবে তারল্য বা লিকুইডিটি নিয়ে আমি কোনো বড় সমস্যা দেখছি না। মানুষ নিশ্চিন্তে ব্যাংকে টাকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে আগামী মাসের ১ তারিখ থেকে দেশে ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হবে। এর ফলে একটি কিউআর কোডের মাধ্যমেই সবাই সবার সঙ্গে লেনদেন করতে পারবে। ভারতের মতো বাংলাদেশেও ডিজিটাল লেনদেন দ্রুত বাড়বে বলে আমরা আশা করছি। এতে নগদ অর্থের ওপর নির্ভরশীলতাও ধীরে ধীরে কমে আসবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, কৃষি, মৎস্য ও পানি সম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, ডাক- টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান এবং প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার বিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনি।

এএইচ