ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৬ জুন ২০২৬,   আষাঢ় ২ ১৪৩৩

বর্ষার শুরুতেই পদ্মার ভয়াল থাবা, ভাঙনের মুখে শতাধিক পরিবার

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৭:১৮ পিএম, ১৬ জুন ২০২৬ মঙ্গলবার

বর্ষার আগমনী বার্তার সঙ্গে সঙ্গে ফরিদপুরে প্রমত্তা পদ্মার বুকে বিলীন হতে শুরু করেছে নদীপাড়ের মানুষের শেষ সম্বল।

ভাঙনের কবলে পড়ে ইতোমধ্যে নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে হাজারো ঘরবাড়ি, ভিটেমাটি ও বিস্তীর্ণ ফসলি জমি। বর্তমানে তীব্র ঝুঁকিতে রয়েছে শত শত বসতভিটা, কৃষিজমি, বিদ্যালয় ও মসজিদসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। ফলে ভাঙন-আতঙ্কে দিন কাটছে নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম এলেই পদ্মার ভাঙনে নিঃস্ব হন দুই পাড়ের মানুষ। চলতি বছরও এর ব্যতিক্রম হয়নি। বর্ষার শুরুতেই জেলার সদর উপজেলার নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের ইউসুফ মাতুব্বরের ডাঙ্গি এলাকায় তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত বছর এ এলাকার শতাধিক বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছিল। ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জিওব্যাগ ফেলে সাময়িক ব্যবস্থা নিলেও এ বছর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আবারও নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে।

ভাঙনের শিকার নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের কয়েকজন বাসিন্দা ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা বারবার পদ্মার ভাঙনে পড়ে ভিটেমাটি সব হারিয়েছি। এখন যতটুকু অবশিষ্ট আছে, তাও নদী কেড়ে নিতে চাইছে। ঘরবাড়ি, স্কুল, মসজিদ—সবই এখন হুমকির মুখে। এগুলো ভেঙে গেলে আমাদের আর যাওয়ার কোনো জায়গা থাকবে না।”

নদীপাড়ের মানুষের অভিযোগ, সব হারিয়ে কেউ রেললাইনের পাশের বস্তিতে, আবার কেউ আশ্রয়ণ প্রকল্পে আশ্রয় নিচ্ছেন। ভাঙন রোধে সরকার স্থায়ী কোনো বাঁধ বা দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প গ্রহণ করলে তারা এ চিরস্থায়ী দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতেন।

ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া বলেন, “ভাঙনের খবর আমরা পেয়েছি এবং বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সব ধরনের সহযোগিতা ও জরুরি সহায়তা দিতে আমরা প্রস্তুত রয়েছি।”

অন্যদিকে, ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব হোসেন ভাঙনের ভৌগোলিক কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, “ভাঙনকবলিত এলাকাটি মূলত পলিবেষ্টিত চরাঞ্চল। প্রতি বছর নদীর পানি বাড়লে এখানে ভাঙন দেখা দেয়। সাম্প্রতিক সময়ে এ এলাকায় নতুন করে বসতি গড়ে উঠেছে। আমরা আপৎকালীন ব্যবস্থা হিসেবে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা করি। এ বছরও পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ভাঙনকবলিত এ চরাঞ্চল অত্যন্ত উর্বর ও ফসলসমৃদ্ধ। সরকার যদি অঞ্চলটি রক্ষায় কোনো স্থায়ী মেগা প্রকল্প হাতে নেয়, তাহলে একদিকে যেমন হাজারো মানুষের বসতভিটা রক্ষা পাবে, অন্যদিকে এ অঞ্চলের উৎপাদিত ফসল জেলার খাদ্য চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।

এমআর//