যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতা স্মারকে ট্রাম্প-পেজেশকিয়ানের স্বাক্ষর
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ০৮:৪২ এএম, ১৮ জুন ২০২৬ বৃহস্পতিবার
স্থায়ী শান্তি চুক্তির প্রথম ধাপ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) আনুষ্ঠানিকভাবে সই হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ইলেকট্রনিকভাবে এতে স্বাক্ষর করেছেন।
উভয় পক্ষ জানিয়েছে, চুক্তিটি ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে।
শিল্পোন্নত ৭ দেশের জোট জি৭ সামিটের সম্মেলন উপলক্ষে বর্তমানে ফ্রান্সে আছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। গতকাল বুধবার রাজধানী প্যারিসের ভার্সাইলিস প্রাসাদে নৈশভোজের আগে এ চুক্তি স্বাক্ষর করেন তিনি। এ সময় ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ তার পাশে ছিলেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চুক্তি স্বাক্ষরের পর রাজধানী তেহরানে নিজ দপ্তরে এই চুক্তি স্বাক্ষর করেন প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানও। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম ইরনা সেই চুক্তি স্বাক্ষরের ছবিও প্রকাশ করেছে।
ইরানের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা স্মারকের সরকারি নথি বুধবার (১৭ জুন) প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ শিরোনামের ১৪ দফা এই নথিতে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া, ইরানের ওপর কিছু আর্থিক বিধিনিষেধ শিথিল, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিষ্ক্রিয় করার ন্যূনতম পদ্ধতি এবং ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
মার্কিন প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নথিটি প্রকাশ করে জানান, জনসমালোচনার মুখে এর পূর্ণাঙ্গ পাঠ প্রকাশ করা হয়েছে। শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই সমঝোতা স্মারকে সই হওয়ার কথা রয়েছে। এরপরই চূড়ান্ত চুক্তির শর্ত নিয়ে ৬০ দিনের আলোচনা শুরু হবে।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাইও নিশ্চিত করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকটি চূড়ান্ত হয়েছে এবং উভয় পক্ষ এতে ইলেকট্রনিকভাবে সই করেছে। তিনি বলেন, চুক্তিটি ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে।
১৪টি পয়েন্ট সম্বলিত ইসলামাবাদ এমওইউ খুব সংক্ষিপ্ত একটি সমঝোতা চুক্তি; কিন্তু এর তাৎপর্য ব্যাপক। কারণ মাত্র ৮০০ শব্দের এই চুক্তিটিই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার কয়েক দশকব্যাপী উত্তেজনা প্রশমণের প্রাথমিক বার্তা এবং একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তির দিকে এগোনোর পথ।
নথি অনুযায়ী, দুই দেশ একে অপরের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতাকে সম্মান জানাবে এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না বলেও নথিতে উল্লেখ আছে। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে আলোচনায় বসতে তারা রাজি হয়েছে। পারস্পরিক সম্মতিতে এই সময়সীমা বাড়ানো যাবে।
সমঝোতা স্মারকে বলা হয়েছে, সই হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু করবে এবং ৩০ দিনের মধ্যে তা পুরোপুরি তুলে নেবে। এই সময়ের মধ্যে সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল ধাপে ধাপে যুদ্ধপূর্ব অবস্থার কাছাকাছি ফিরিয়ে আনা হবে। চূড়ান্ত চুক্তি হলে তার ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের আশপাশ থেকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের বাহিনী সরিয়ে নেবে বলেও অঙ্গীকার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ইরান ৬০ দিনের জন্য পারস্য উপসাগর থেকে ওমান সাগর এবং উল্টো পথে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ ও বিনা খরচে চলাচল নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। নথিতে বলা হয়েছে, জাহাজ চলাচল তাৎক্ষণিকভাবে শুরু হবে, তবে প্রযুক্তিগত ও সামরিক প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং মাইন অপসারণের কাজ ৩০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ প্রশাসন ও সামুদ্রিক সেবা ব্যবস্থার বিষয়ে ওমান এবং পারস্য উপসাগরীয় উপকূলবর্তী দেশগুলোর সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী আলোচনাও করবে তেহরান।
উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু প্রকল্পকে ঘিরে টানাপোড়েনের জেরে টানা ৪০ দিন ধরে সংঘাত এবং তারপর যুদ্ধবিরতির নামে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে স্থবির অবস্থার পর গত মে মাসের প্রথম সপ্তাহে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানের কাছে নতুন এই চুক্তির খসড়া পাঠিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।
এএইচ
