সাড়ে ৩ মাস পর হরমুজ পার হলো ‘বাংলার জয়যাত্রা’
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ০৮:৪৪ এএম, ২৩ জুন ২০২৬ মঙ্গলবার | আপডেট: ০৮:৪৬ এএম, ২৩ জুন ২০২৬ মঙ্গলবার
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে পারস্য উপসাগরে দীর্ঘ সাড়ে ৩ মাসের বেশি সময় আটকে থাকার পর হরমুজ প্রণালি পার হয়েছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) মালিকানাধীন জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’।
সোমবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে জাহাজটি প্রণালি অতিক্রম করে।
বর্তমানে জ্বালানি বা বাংকারিং নেওয়ার জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে জাহাজটি।
বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক ও ক্রুকে নিয়ে জাহাজটি নিরাপদে হরমুজ প্রণালি পার হয়েছে। জাহাজে কর্মরত অতিরিক্ত চিফ অফিসার প্রণয় সাহা ক্ষুদে বার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিএসসির তথ্য অনুযায়ী, গত ২ ফেব্রুয়ারি জাহাজটি হরমুজ হয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে। পরে এটি কাতারের একটি বন্দর থেকে স্টিল কয়েল বোঝাই করে ২৭ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাবেল আলী বন্দরে পৌঁছায়। ঠিক পরের দিন অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আন্তর্জাতিক পরাশক্তি আমেরিকা ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শুরু হয়।
এর পরপরই হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করে ইরানি কর্তৃপক্ষ।
গত ১১ মার্চ জাবেল আলীতে পণ্য খালাসের পর জাহাজটির কুয়েতে যাওয়ার কথা ছিল। তবে নিরাপত্তার মারাত্মক ঝুঁকি বিবেচনায় বিএসসি জাহাজটিকে সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় জাহাজটি দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনে যাওয়ার জন্য সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দর থেকে ৩৭ হাজার টন সার বোঝাই করে। কিন্তু হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ থাকায় জাহাজটি রাস আল খায়ের বন্দরেই আটকে পড়ে।
পরবর্তীতে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হলে গত ৮ এপ্রিল জাহাজটি কেপটাউনের উদ্দেশে রাস আল খায়ের ত্যাগ করলেও ১০ এপ্রিল হরমুজ পাড়ি দিতে গিয়ে পুনরায় ইরানি কোস্ট গার্ডের বাধার মুখে পড়ে।
নিরুপায় হয়ে জাহাজটি ওমানের মিনা সাকার বন্দরের বহির্নোঙরে আশ্রয় নেয়। সর্বশেষ ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক সমঝোতা চুক্তি হওয়ার পর বাংলাদেশ সরকারের দীর্ঘ ও নিবিড় কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় জাহাজটি সোমবার রাতে হরমুজ প্রণালি পাড়ি দেয়।
বিএসসি আরও জানায়, ২০১৮ সালে নির্মিত ৩৮ হাজার ৮৯৪ ডেডওয়েট টন (ডিডব্লিউটি) ধারণক্ষমতার বাল্ক ক্যারিয়ারটি বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরের জলসীমার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। সেখানে বাংকারিং ও প্রয়োজনীয় ক্লিয়ারেন্স প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। জাহাজে থাকা ৩১ জন নাবিক ও ক্রু সবাই সুস্থ ও নিরাপদ রয়েছেন।
আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (আইএমও) হিসাব অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালির চার পাশে এখনও প্রায় ১ হাজার ৬০০টি জাহাজ আটকে আছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার কয়েক দিন পরেই ইরান এই সংকীর্ণ জলপথটি বন্ধ করে দেয় এবং তাদের অনুমতি ছাড়া এই পথ দিয়ে কারও যাওয়ার সুযোগ নেই বলে ঘোষণা দেয়।
সম্প্রতি যুদ্ধ বন্ধে নতুন করে অগ্রগতি হওয়ায় এবার আবার হরমুজ অতিক্রমের চেষ্টা করে এমভি বাংলার জয়যাত্রা।
এএইচ
