ঢাকা, বুধবার   ২৪ জুন ২০২৬,   আষাঢ় ৯ ১৪৩৩

আ.লীগের বিচার না হলে বিএনপিকে ‘যাওয়ার রাস্তা’ খুঁজতে হবে: শফিকুর রহমান

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১০:৪৮ পিএম, ২৩ জুন ২০২৬ মঙ্গলবার | আপডেট: ১০:৪৯ পিএম, ২৩ জুন ২০২৬ মঙ্গলবার

জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বিচার না হলে সরকারকে ‘যাওয়ার পথ খুঁজে বের করতে হবে’ বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

রাজধানীর বিজয়নগরে মঙ্গলবার (২৩ জুন) আওয়ামী লীগ আমলে সংঘটিত সব গুম, খুন ও গণহত্যার বিচারের দাবিতে ১১ দল আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শফিকুর রহমান।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের জাঁতাকলে পিষ্ট এই জাতিকে আল্লাহ তাআলা আমাদের ছাত্র, শ্রমিক, যুব ও জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে মাত্র দুই বছর আগে মুক্তি দিয়েছিলেন।’ সেই সময় যে দলটি জামায়াতের মতোই মজলুম ছিল, নির্যাতিত ছিল, আজকে তারা ক্ষমতায় আছে—এ মন্তব্য করে জামায়াত আমির বলেন, ‘তারা তখন প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেছিল। নির্বাচনের সময় তারা বলেছিল, নির্বাচিত হলে যত হত্যা ও নির্যাতন হয়েছে, সবগুলোর বিচার করবে। ক্ষমতায় বসার পর এখন তাদের সুর পাল্টে গেছে।’

গত চার মাসে দেশে ৬০০ জনের অধিক মানুষ নির্মমভাবে খুন হয়েছে জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আরও দুঃখজনক, এই দলটি (বিএনপি) নিজেদের হাতে নিজেদের কর্মীদেরই খুন করেছে। যাদের নিজেদের কর্মীদের সম্পর্কে নিজেদেরই কোনো দায় এবং দরদ থাকে না,২০ কোটি মানুষের জন্য তাদের কী দায় এবং দরদ থাকবে?’

সরকারের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, লজ্জার বিষয়, সরকার ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্ত হওয়ার কথা বলে ঠিক ফ্যাসিবাদের রাজপথ ধরেই তারা এখন হাঁটা শুরু করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, বিভিন্ন ব্যাংকে অযাচিত হস্তক্ষেপ, বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজগুলো দলীয় অনুগতদের দিয়ে দখল করা, জেলায় জেলায় প্রশাসক বসিয়ে দেওয়া, এমনকি খেলার মাঠটাও পর্যন্ত তারা দলমুক্ত রাখতে পারল না। এইভাবে তারা আবার কার্যত একদলীয় ফ্যাসিবাদী শাসনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

সরকারের উদ্দেশে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আপনারা যে পথে হাঁটছেন, সংসদে আমরা প্রতিটি বিষয়েই প্রতিবাদ করছি। দুই-তৃতীয়াংশ কীভাবে পেয়েছেন, আপনারাই ভালো জানেন। আর এ দেশের জনগণ জানে। এবং এই ব্যাপারে কিছু রাজসাক্ষী ইতিমধ্যে পাওয়া গেছে।’

দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত নেতা বলেন, ‘কারও বাবার সাধ্য নাই, এ দেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্ব নিয়ে টানাটানি করা। আল্লাহর ওপর ভরসা করে আপনাদের ভবিষ্যতের সেই বিপ্লবের দাওয়াত আজকে দিয়ে রাখলাম।’

সংসদে যত দিন পর্যন্ত কথা বলার পরিবেশ থাকবে, তত দিন বিরোধী দল সংসদে থাকবে বলে জানান শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘যেদিন সংসদের প্রয়োজন ফুরিয়ে যাবে, যেদিন মনে হবে, সংসদে বলে লাভ নাই, সেদিন সেই সংসদে খোদা হাফেজ বলে আমরা বেরিয়ে আসব।’

সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘জুলাই হত্যাকাণ্ড, শাপলা হত্যাকাণ্ড, পিলখানা হত্যাকাণ্ডসহ সব গুম-খুন এবং শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার অবিলম্বে নিশ্চিত করতে হবে। বিচার যদি নিশ্চিত না করা হয়, এই সরকার কোনোভাবে পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ করতে পারবে না।’

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ‘এই নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পরে গত চার মাসে আইসিটিতে (আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে) নতুন কোনো রায় আমরা এখন পর্যন্ত দেখি নাই। কোনো নতুন তদন্তের রিপোর্ট এখন পর্যন্ত দাখিল হয় নাই। এটা স্পষ্ট, যে চিফ প্রসিকিউটরকে বসানো হয়েছে, তিনি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন। অবিলম্বে তাঁকে পদত্যাগ করতে হবে।’

আওয়ামী লীগের দেশে আসার, রাজনীতি করার সুযোগ বাংলাদেশে ৫ আগস্টে সমাপ্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করে এনসিপি নেতা বলেন, যারা সমঝোতা করছে, যারা নতুন করে স্বপ্ন দেখছে আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে পুনর্বাসিত করার, তাদের পরিণতি আওয়ামী লীগের মতোই হবে।

‘শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকারীরা ভারতে গিয়ে জামাই আদরে প্রতিপালিত হচ্ছে’—মন্তব্য করে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের আমির মামুনুল হক বলেন, ‘ভারত সরকারকে বলতে চাই, হাদি হত্যার বিচার করার অধিকার বাংলাদেশের রয়েছে। সেই হত্যাকারীদের বাংলাদেশে হস্তান্তর করুন।’

মামুনুল হক আরও বলেন, ‘যে ফ্যাসিবাদ বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত হয়েছে, তারা পুরোনো রূপেও ফিরবে না, আর নতুন রূপেও ফিরতে দেব না আমরা।’

জুলাই স্মৃতি জাদুঘর নিয়ে সরকার টালবাহানা করছে বলে অভিযোগ করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের আমির। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, ‘মনে রেখো, জুলাই বিপ্লবের পিঠে যদি ছুরিকাঘাতের চেষ্টা করো, তবে ইতিহাস থেকে নির্মূল হয়ে যাবে।’

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় জোটের লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন খেলাফত মজলিশের সিনিয়র নায়েবে আমির আহমদ আলী কাসেমী, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধান, জামায়াতের ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন, মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল প্রমুখ।

এমআর//