ঢাকা, বুধবার   ২৪ জুন ২০২৬,   আষাঢ় ১০ ১৪৩৩

দেবিদ্বারে ছাত্র দিয়ে এসএসসির খাতা মূল্যায়নের ভিডিও ভাইরাল, তদন্তের দাবি

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৬:০৮ পিএম, ২৪ জুন ২০২৬ বুধবার | আপডেট: ০৬:১০ পিএম, ২৪ জুন ২০২৬ বুধবার

কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার আবদুল্লাহপুর হাজী আমীর উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. বাচ্চু মিয়ার বিরুদ্ধে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার বিজ্ঞান বিষয়ের উত্তরপত্র মূল্যায়নে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিজে খাতা মূল্যায়ন না করে বিদ্যালয়ের এক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে দিয়ে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করিয়েছেন।

সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে এলাকাবাসীর পক্ষে অলি আহাম্মেদ খান ও শরিফুল ইসলাম দেবিদ্বার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন।

অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার বিজ্ঞান বিষয়ের উত্তরপত্র মূল্যায়নের দায়িত্ব পান আবদুল্লাহপুর হাজী আমীর উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. বাচ্চু মিয়া। তবে তিনি বোর্ডের নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ না করে বিদ্যালয়ের মো. মেহেদী নামের এক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে দিয়ে খাতা মূল্যায়ন করান বলে অভিযোগ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ওই শিক্ষার্থীকে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করতে দেখা যায় বলে দাবি করা হয়েছে।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা উত্তরপত্র মূল্যায়নের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

লিখিত অভিযোগে এলাকাবাসী ঘটনার সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগকারী অলি আহাম্মেদ খান ও শরিফুল ইসলাম বলেন, “কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়। তবে শিক্ষার্থীদের ন্যায্য মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে এবং শিক্ষাব্যবস্থার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। এসএসসি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে অনিয়ম শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।”

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. বাচ্চু মিয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে দেবিদ্বার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দেওয়ান মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, “ছাত্র দিয়ে এসএসসির উত্তরপত্র মূল্যায়নের অভিযোগে একটি লিখিত আবেদন পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এমআর//