টাইব্রেকারে জিতে শেষ ষোলোয় মরক্কো, নেদারল্যান্ডসের স্বপ্নভঙ্গ
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ১০:৫৭ এএম, ৩০ জুন ২০২৬ মঙ্গলবার
পিছিয়ে পড়েও সমতায় ফেরা মরক্কো বাজিমাত করল টাইব্রেকারে। নেদারল্যান্ডসকে বিদায় করে শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিল গত আসরের সেমিফাইনালিস্টরা।
মেক্সিকোর মন্তেরেইতে নির্ধারিত সময়ে শেষ হয় ১-১ গোলে। অতিরিক্ত সময়েও সমতা থাকলে টাইব্রেকারে ডাচদের ৩-২ গোলে হতাশায় পুড়ায় মরক্কো।
অতিরিক্ত সময়েও গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় পেনাল্টি শুটআউটে। অবিশ্বাস্য ও নাটকীয় এক পেনাল্টি শ্যুটআউটে ডাচদের বিদায় এবং মরক্কোর শেষ ষোলো নিশ্চিত হয়েছে।
যেখানে টানা প্রথম শটে গোল করেন নেদারল্যান্ডসের টিউন কুপমেইনার্স। পরের দুটি শটে মিস করেন মরক্কোর নেইল এল আয়নাউয়ি এবং ডাচ ফরোয়ার্ড জাস্টিন ক্লাইভার্ট। সুফিয়ান রাহিমি সমতায় ফেরান মরক্কোকে। নিজেদের তৃতীয় শটে দ্বিতীয় গোল পায় নেদারল্যান্ডসও, দিয়েছেন ভাউট ভেগহোর্স্ট। এরপর শেমসদিন তালবির গোলে মরক্কোকে ফের সমতায় ফেরানোর পর ডাচদের পক্ষে বাইরে শট মেরে বসেন কুইন্টেন টিম্বার্স।
গোলপোস্টে শট নিয়ে মরক্কোর অধিনায়ক আশরাফ হাকিমি নাটকীয়তার জন্ম দেন। এরপর বুনো ঠেকিয়ে দেন সামারভিলের শট। তবে নিজেদের পঞ্চম ও শেষ শটে ইসমায়েল সাইবারি আর ভুল করেননি। গোল দিয়েই জার্সি খুলে বুনো উল্লাসে মেতেছেন।
আর তাতেই ডাচদের বিদায় করে শেষ ১৬-র টিকিট পায় মরক্কো।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই পরাশক্তি আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে মেতে উঠলেও প্রথমার্ধে কোনো দলই জালের দেখা পায়নি। ডাচদের চেয়ে মরক্কো প্রথমার্ধে বেশ কিছু ভালো সুযোগ তৈরি করলেও গোলরক্ষক বার্ট বারব্রুগেনের দক্ষতায় গোলবঞ্চিত হতে হয় ‘অ্যাটলাস লায়ন’দের। মাঝমাঠে দুই দলের তীব্র লড়াইয়ের সঙ্গে ম্যাচটিতে বেশ শারীরিক ফুটবলও দেখা গেছে, যার ফলে প্রথমার্ধেই মাথায় চোট পেয়ে রক্তাক্ত হতে হয় ডাচ ডিফেন্ডার জান পল ভ্যান হেককে।
ম্যাচের ডেডলক ভাঙে দ্বিতীয়ার্ধের ৭২ মিনিটে। ক্রিসেনসিও সামারভিলের পাস থেকে নেদারল্যান্ডসকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন কোডি গাকপো। গোল করার পর মানসিকভাবে কিছুটা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়তে দেখা যায় এই ডাচ ফরোয়ার্ডকে।
এই ম্যাচে নামার আগেই মাতৃগর্ভে তার অনাগত সন্তানের মৃত্যুর খবর পেয়েছেন তিনি। চোখে জল নিয়ে আকাশে তাকিয়ে উদযাপন সারেন এই তারকা।
ডাচরা যখন এই এক গোলের লিড নিয়ে মাঠ ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক তখনই ম্যাচের যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে (৯০+১ মিনিট) নাটকীয়ভাবে সমতায় ফেরে মরক্কো। শেমশাদিন তালবির চমৎকার ক্রস থেকে বুলেট গতির হেডে ডাচদের জালে বল পাঠান মরক্কোর ডিফেন্ডার ইসা দিওপ।
১-১ সমতা নিয়ে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। এই ১৫-১৫ মিনিটের অর্ধে মরক্কো প্রায় একক আধিপত্য বিস্তার করে খেললেও গোলরক্ষক বারব্রুগেন প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে ডাচদের ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন।
বিশেষ করে সুফিয়ান রাহিমির জোড়া ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে নেওয়া শটটি যেভাবে তিনি হাঁটু দিয়ে ঠেকিয়ে দেন, তা ছিল অবিশ্বাস্য।
কিন্তু টাইব্রেকারে শেষ পর্যন্ত বাজিমাত করেছেন মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনো।
এএইচ
