ঢাকা, মঙ্গলবার   ৩০ জুন ২০২৬,   আষাঢ় ১৬ ১৪৩৩

কিশোরী ধর্ষণের দায়ে এক সেনাসদস্যের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

জয়পুরহাট প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ০৪:০৮ পিএম, ৩০ জুন ২০২৬ মঙ্গলবার

জয়পুরহাটে পনেরো বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণের দায়ে সেরাতুল মুসতাকিন ওরফে রনি (২৬) নামে এক সেনা সদস্যকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। 

মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেলে জয়পুরহাট শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুলের বিচারক আবদুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।  

একই সঙ্গে আসামি ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে, অনাদায়ে আরও ১ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। 

রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত সেরাতুল মুসতাকিন ওরফে রনি জেলার আক্কেলপুর উপজেলার গোপিনাথপুর ইউনিয়নের তেমারিয়া গ্রামের টিপু সলতানের ছেলে বলে জানা গেছে। আসামি সেনাসদস্য বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। 

আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) রিনাত ফেরদৌসী রিনি রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার বিবরণীতে জানা যায়, তৎকালীন সময়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া ওই মেয়ের বাবা মালয়েশিয়াতে থাকতেন। সেই সুবাতে সে মাকে নিয়ে আক্কেলপুর উপজেলার তেমারিয়া গ্রামের নানা বাড়িতে থাকতেন। ২০২২ সালের  ১৪ জুন তারিখে বিকেল ৩টায় সময় আসামির চাচার বাড়ির আম গাছের নিচে ভিকটিম খেলাধুলা করছিল। তখন আসামি ভিকটিমকে লজেন্স দেওয়ার প্রলোভন দিয়ে বাসার একটি শয়ন কক্ষে নিয়ে যায়। সেখানে ভিকটিমকে জোরপূর্বক বিছানায় শুয়ে ধর্ষণ করে। 

ধর্ষণ করার পর আসামি এ কথা কাউকে বলিতে নিষেধ করে এবং ভিকটিমকে হত্যা করার জন্য বিভিন্ন প্রকার হুমকি দেয়। পরেদিন ভিকটিম অসুস্থ্য হলে বিষয়টি জানতে পারে পরিবার। 

এরপর ভিকটিমের নানা আসামির পরিবারকে জানালে তারা ২ লাখ টাকা দিতে চায়।  তখন আদালতে আশ্রয় নেওয়ার কথা জানালেন আসামির পরিবার বলে, এখন কাবিননামা করা হোক, পরে ছেলে চাকরি থেকে আসলে বিবাহ রেজিষ্ট্রী করা হবে বলে কালক্ষেপণ করতে থাকে। 

ওই বছরের ০৫ আগস্ট আদালতের মাধ্যমে থানায় মামলা দায়ের করেন ভিকটিমের মা। এ মামলার শুনানি ও ৮ জনের স্বাক্ষী শেষে আদালত এ রায় দেন।

এএইচ