কুষ্টিয়ায় পীর হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ দুজন কারাগারে
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ০৭:৪৯ পিএম, ৩০ জুন ২০২৬ মঙ্গলবার
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে দরবারে হামলা চালিয়ে আলোচিত কথিত পীর শামীম রেজা জাহাঙ্গীর ওরফে আব্দুর রহমানকে হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি জামায়াত নেতা খাজা আহমেদ ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের দৌলতপুর উপজেলা সভাপতি আসাদুজ্জামানের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এনায়েতুল কবীরের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে শুনানি শেষে আদালত এ আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলার প্রধান হুকুমদাতা হিসেবে অভিযুক্ত কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও বর্তমানে দৌলতপুর উপজেলা জামায়াত নেতা খাজা আহমেদ এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের দৌলতপুর উপজেলা সভাপতি আসাদুজ্জামান এর আগে হাইকোর্ট থেকে ছয় সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান। ওই সময়সীমা শেষ হলে হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী তাঁরা সংশ্লিষ্ট নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাঁদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
জামিন নামঞ্জুর হওয়া আসামিদের মধ্যে একজন দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর গ্রামের আবুল কালামের ছেলে জামায়াত নেতা খাজা আহমেদ। অপরজন উপজেলার হোসেনাবাদ গ্রামের মৃত এরশাদ আলীর ছেলে এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের দৌলতপুর উপজেলা সভাপতি আসাদুজ্জামান।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১১ এপ্রিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পুরোনো ভিডিও ছড়িয়ে দিয়ে কোরআন অবমাননার অভিযোগ তোলা হয়। এরপর পশ্চিম-দক্ষিণ ফিলিপনগরের দারোগার মোড় এলাকায় অবস্থিত দরবারে স্থানীয়দের পরিচয়ে একদল ব্যক্তি হামলা চালায়।
হামলাকারীরা দরবারে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি দরবারের পীর শামীম রেজা জাহাঙ্গীর ওরফে আব্দুর রহমানকে তাঁর কক্ষ থেকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে ধারালো অস্ত্র ও লাঠি দিয়ে আঘাত করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
ঘটনার তিন দিন পর নিহতের বড় ভাই ফজলুর রহমান সান্টু বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করে দৌলতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এমআর//
