শ্মশান থেকে উদ্ধার অন্ধ ঘোড়ার খাবারের দায়িত্ব নিলেন হুইপ বকুল
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ১০:২২ পিএম, ৩০ জুন ২০২৬ মঙ্গলবার | আপডেট: ১০:২৬ পিএম, ৩০ জুন ২০২৬ মঙ্গলবার
অন্ধ হয়ে যাওয়ায় আর কোনো কাজে আসবে না—এমন ধারণা থেকে মালিক ঘোড়াটিকে শ্মশানের পাশে ফেলে রেখে যান।
তীব্র ক্ষুধা ও গ্রীষ্মের দাবদাহে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করা প্রাণীটিকে ঘিরে যখন অনেকেই শুধু ছবি ও ভিডিও তুলছিলেন, তখন মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দেন একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মাসুদ রানা সোহান।
তিনি ঘোড়াটিকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান এবং নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী চিকিৎসা ও পরিচর্যা শুরু করেন। ঘটনাটি সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার চান্দুরিয়া গ্রামের।
প্রাণিপ্রেমী এই শিক্ষার্থীর মানবিক উদ্যোগের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জাতীয় সংসদের হুইপ ও খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ রকিবুল ইসলাম বকুল ঘোড়াটির খাবার ও চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দেন। ইতোমধ্যে তিনি দুই মাসের খাবারের জন্য ১০ হাজার টাকা সহায়তা পাঠিয়েছেন।
কলারোয়ার চন্দনপুর ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মাসুদ রানা সোহান জানান, ঘোড়াটিকে বাড়িতে আনার পর প্রথমে তাঁর মা-বাবা আপত্তি করলেও পরে তারাও প্রাণীটির প্রতি মায়া অনুভব করেন। তবে সীমিত আয়ে ঘোড়াটির খাবার ও চিকিৎসার খরচ চালানো ছিল কঠিন। তাই আমের মৌসুমে দিনমজুর হিসেবে কাজ করে উপার্জিত অর্থ দিয়ে তিনি ঘোড়াটির খাবার ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
তিনি বলেন, চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানিয়েছেন, ঘোড়াটির দুটি চোখই নষ্ট হয়ে গেছে। স্থানীয়দের কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন, মালিক লোহার রড দিয়ে প্রাণীটির চোখ নষ্ট করে দিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
সোহান আরও বলেন, ‘আমার এই উদ্যোগের খবর দেখে সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল ঘোড়াটির সার্বিক ব্যয়ভার বহনের আশ্বাস দিয়েছেন। ইতোমধ্যে দুই মাসের খাবারের জন্য ১০ হাজার টাকা পাঠিয়েছেন। এতে আমি অনেকটা দুশ্চিন্তামুক্ত হয়েছি।’
তিনি ঘোড়াটির উন্নত চিকিৎসা এবং সম্ভাব্যভাবে দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারি সহায়তা কামনা করেন।
সোহানের বাবা নাইমুর রহমান বলেন, তাঁর ছেলে প্রাণীটিকে পরিবারের অন্য গৃহপালিত পশুর মতোই যত্নে লালন-পালন করছে। ছেলের এই মানবিক উদ্যোগে পরিবারও সহযোগিতা করছে। একই সঙ্গে ঘোড়াটির ব্যয়ভার গ্রহণ করায় সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
স্থানীয় কেসিজি ইউনাইটেড মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আব্দুল গফুর মন্টু বলেন, বর্তমান সময়ে মানুষের প্রতি মানুষের সহমর্মিতাই কমে যাচ্ছে। এমন বাস্তবতায় একটি অসহায় অন্ধ ঘোড়ার প্রতি সোহানের মমত্ববোধ সত্যিই অনুকরণীয়। তাঁর এই মানবিক উদ্যোগ এলাকায় ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
এমআর//
