অনলাইন জুয়ায় সর্বোচ্চ ১০ বছরের জেল, নতুন আইন পাস
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ১০:৪০ পিএম, ৩০ জুন ২০২৬ মঙ্গলবার
ডিজিটাল যুগের অনলাইন জুয়া, স্পোর্টস বেটিং ও ক্রিপ্টোকারেন্সিভিত্তিক জুয়া রুখতে ১৫৯ বছরের পুরোনো আইন বাতিল করে জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিতে ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’ পাস হয়েছে।
আইনে অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৯তম দিনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বিলটি পাসের জন্য উত্থাপন করলে তা সর্বসম্মতিতে গৃহীত হয়। এর মাধ্যমে ১৫৯ বছর আগে প্রণীত ‘দ্য পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট, ১৮৬৭’ বাতিল করে যুগোপযোগী নতুন আইন কার্যকর করা হলো।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অনলাইন জুয়া, স্পোর্টস বেটিং, ভার্চুয়াল ক্যাসিনো ও ক্রিপ্টোকারেন্সিভিত্তিক জুয়ার মতো আধুনিক অপরাধ মোকাবিলায় বিদ্যমান আইনি কাঠামো অকার্যকর ও অপর্যাপ্ত হয়ে পড়েছিল। অনলাইন বেটিং প্ল্যাটফর্ম, ভিপিএন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভুয়া মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট এবং ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে সংঘটিত জুয়া, অর্থপাচার ও প্রতারণা দেশের সামাজিক শৃঙ্খলা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং তরুণ সমাজের জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করছে।
নতুন আইনে ‘অনলাইন জুয়া বা দূরবর্তী জুয়া’, ‘অনলাইন বেটিং’, ‘ক্রিপ্টোকারেন্সি’, ‘ঘোস্ট সিম’ এবং ‘ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্ট’-এর সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
আইন অনুযায়ী, জুয়ার উদ্দেশ্যে অর্থ জমা, উত্তোলন বা স্থানান্তর, বিদেশি অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্মের প্রতিনিধি বা এজেন্ট হিসেবে কাজ করা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুয়ার পেজ বা চ্যানেল পরিচালনা, জুয়ার সরঞ্জাম বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম সরবরাহ, জুয়ার বিজ্ঞাপন প্রচার এবং স্পন্সরশিপ—সবই শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
এসব অপরাধে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড, ৫ কোটি টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া আইনের আওতায় সংঘটিত অপরাধগুলোকে আমলযোগ্য ও অজামিনযোগ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এসব মামলার বিচার হবে সাইবার ট্রাইব্যুনালে অথবা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মোবাইল কোর্টে।
এমআর//
