সাঈদীর সাক্ষী সুখরঞ্জন বালীকে অপহরণকারী সাবেক এএসপি কারাগারে
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ০৫:৪৩ পিএম, ৩ জুলাই ২০২৬ শুক্রবার
সুখরঞ্জন বালীকে গুমের ঘটনায় গ্রেপ্তার সাবেক সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) ফজলুর রহমানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জামায়াতে ইসলামীর নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দিতে এসে সুখরঞ্জন বালী নিখোঁজ হয়েছিলেন।
শুক্রবার ( ৩ জুলাই) বিকালে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলমের আদালত এই আদেশ দেন।
এর আগে,এদিন দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. হেলালুল ইসলাম মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে জেল হাজতে আটক রাখার আবেদন করেন।
গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাতে ঢাকার নিজ বাসা থেকে ফজলুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেন করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
আবেদনে বলা হয়, ২০১২ সালের ৫ নভেম্বর সকাল সাড়ে ৯ টায় সময় আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর পক্ষের সাক্ষী সুখরঞ্জন বালী তার সঙ্গীয় আইনজীবীসহ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুরাতন হাইকোর্ট ভবনের মূল ফটকের সামনে গাড়ি যোগে এসে থামার সঙ্গে সঙ্গে সাদা পোষাকধারী বাহিনীর লোকজন সুখরঞ্জন বালীকে গাড়ী থেকে টেনেহেচরে নামিয়ে জোরপূর্বকভাবে তাদের সাদা ডবলকেবিন গাড়িতে উঠিয়ে নিয়ে যায়।
তারপর ভিকটিম সুখরঞ্জন বালীকে চোখবাঁধা অবস্থায় ২ মাস ব্যাপী শারীরিক নির্যাতন করে অন্ধকার বন্দীশালায় আটক রাখে। পরবর্তীতে ভারতের দমদম কেন্দ্রীয় কারাগারে ৫ বছর আটক থাকার পর সেখানকার গনমাধ্যমে প্রকাশ পেলে বাংলাদেশ থেকে তার ছেলে অপূর্ব বালী ভারতে গিয়ে কারাগার থেকে তার বাবাকে জামিনে মুক্ত করে নিয়ে আসে।
আরও বলা হয়, মামলাটি তদন্তকালে এবং প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য প্রমাণে জানা যায় যে, ঘটনার দিন ডিএমপি ডিবি থেকে ২ টি ডবল কেবিন গাড়ি যোগে আসামি মো. ফজলুর রহমান ও তার সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্স আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুরাতন হাইকোর্ট ভবনের এর সম্মুখ থেকে জোরপূর্বকভাবে আটক করে ডিএমপি, ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যায়। সেখানে হাজতখানায় রাখার পর তাকে সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। ঘটনার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে জেল হাজতে আটক রাখার প্রার্থনা করেন এই তদন্তকারী কর্মকর্তা।
জানা গেছে, পিরোজপুরের বাসিন্দা সুখরঞ্জন বালী ২০১২ সালের ৫ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে সাঈদীর পক্ষে সাক্ষ্য দিতে এসে আদালত প্রাঙ্গণ থেকেই নিখোঁজ হন। সেসময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, তাকে সীমান্ত এলাকায় পাওয়া গেছে। তবে তার পরিবার ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো তখন থেকেই অভিযোগ করে আসছিল যে তাকে ট্রাইব্যুনাল এলাকা থেকেই তুলে নেয়া হয়েছিল। ঘটনাটি সে সময় ব্যাপক আলোড়ন তুলেছিল।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর, ওই মাসেরই ২১ আগস্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর কার্যালয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেন সুখরঞ্জন বালী। অভিযোগে তিনি দাবি করেন, সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে রাজি না হওয়া এবং পরে তার পক্ষে সাক্ষ্য দেয়ায় তাকে গুম ও নির্যাতন করা হয়েছিল। এই অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাসহ ৩২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।
আসামিদের তালিকায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম, সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ, সাবেক আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, ট্রাইব্যুনালের সাবেক বিচারক বিচারপতি এ টি এম ফজলে কবির, সাবেক তদন্তকারী কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন এবং পিরোজপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এ কে এম আউয়ালের নামও রয়েছে।
এমআর//
