বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদারে প্রত্যয়
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ০৮:৫১ পিএম, ৪ জুলাই ২০২৬ শনিবার
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত ‘ফ্রিডম ২৫০’ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বন্ধুত্ব, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরো জোরদারের প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে।
শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) এবং ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
এতে সরকারের উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রী, কূটনীতিক, ব্যবসায়ী, উন্নয়ন সহযোগী এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি (জোনায়েদ সাকি) এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন উপস্থিত ছিলেন।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেছেন, পারস্পরিক বাণিজ্য, বেসরকারি খাতনির্ভর প্রবৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের নতুন অধ্যায় গড়ে তোলা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন প্রচলিত সহায়তানির্ভর সম্পর্কের বাইরে গিয়ে ন্যায্য ও ভারসাম্যপূর্ণ বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং যৌথ সমৃদ্ধির ভিত্তিতে প্রকৃত অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে চায়।
বাংলাদেশে আরও বেশি বিনিয়োগ করতে মার্কিন উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন বলেছেন, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকার সমান সুযোগ নিশ্চিত, নীতিগত স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে।
মার্কিন কোম্পানিগুলোর প্রতি প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, প্রযুক্তি ও দক্ষতা স্থানান্তর, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় শিল্পের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশের উন্নয়নে তারা আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন অ্যামচেম বাংলাদেশের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল। তিনি বলেন, এ আয়োজন বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের প্রতিফলন। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো সম্প্রসারণের অভিন্ন প্রত্যয়ও এতে উঠে এসেছে।
সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল বলেন, অ্যামচেম ও যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান দুই দেশের দৃঢ় অংশীদারিত্ব এবং বাংলাদেশে মার্কিন ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের ক্রমবর্ধমান সম্পৃক্ততার পরিচয় বহন করে।
তিনি বলেন, তিন দশকের বেশি সময় ধরে অ্যামচেম বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহজতর করার পাশাপাশি বিভিন্ন খাতে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর কার্যক্রমে সহায়তা দিয়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রেখে আসছে।
অ্যামচেম সভাপতি বলেন, বাংলাদেশে ব্যবসার সুযোগ খুঁজতে আগ্রহী মার্কিন বিনিয়োগকারীদের জন্য সংগঠনটি প্রধান প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে। একই সঙ্গে আরো অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসায়িক পরিবেশ গড়ে তুলতে অ্যামচেম কাজ অব্যাত রাখবে।
তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের কমার্শিয়াল অ্যাডভাইজারকে অ্যামচেমের পরিচালনা পর্ষদের উপদেষ্টা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে বাণিজ্য ও বিনিয়োগে সহযোগিতা আরো জোরদার হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব এবং জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগকে তুলে ধরে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়।
এএইচ
