ঢাকা, মঙ্গলবার   ০৭ জুলাই ২০২৬,   আষাঢ় ২৩ ১৪৩৩

বাংলাদেশের জন্য উন্মুক্ত মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার: মন্ত্রী

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৭:৫৬ পিএম, ৭ জুলাই ২০২৬ মঙ্গলবার | আপডেট: ০৮:৫৫ পিএম, ৭ জুলাই ২০২৬ মঙ্গলবার

শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের সুফল পাওয়া শুরু হয়েছে। বাংলাদেশের জন্য সোমবার থেকে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (০৭ জুলাই) সিলেট সার্কিট হাউসে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

এর আগে দুপুরে সিলেট সার্কিট হাউসে ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন ও তার প্রতিনিধিদল মন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

সাক্ষাৎকালে সিলেটের সার্বিক উন্নয়ন, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি, বিশেষ করে সিলেটি প্রবাসীদের অবদান এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। 

শ্রমবাজার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নতুন শ্রমবাজার সৃষ্টি ও বিদ্যমান শ্রমবাজার সম্প্রসারণে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল সোমবার মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত হয়েছে। 

মন্ত্রী জানান, আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ বিনা খরচে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো শুরু হবে বলে আশা করছে সরকার।

পর্যায়ক্রমে অন্যান্য দেশের শ্রমবাজারও উন্মুক্ত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সাক্ষাৎ শেষে ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বিদ্যমান। এ সম্পর্ককে আরও জোরদার ও ফলপ্রসূ করতে দুই দেশ ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং পারস্পরিক উন্নয়নকে আরও গতিশীল করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

এ সময় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার, সিলেটের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক পিংকি সাহা-সহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়েছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। ২০০৮ সালে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে শ্রমবাজারটি বন্ধ হয় এবং ২০১৬ সালে তা পুনরায় চালু হয়। কিন্তু দুর্নীতির অভিযোগে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেওয়া আবার বন্ধ করে দেয় মালয়েশিয়া। এরপর ২০২২ সালের আগস্ট থেকে কর্মী যাওয়া শুরু হলেও ২০২৪ সালের ১ জুন থেকে আবারও বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য শ্রমবাজারটি বন্ধ হয়ে যায়। 

তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরে দুই দেশের আলোচনার মাধ্যমে আইনি জটিলতা কাটিয়ে এই শ্রমবাজার আবারও সচল হলো। এতে বাংলাদেশি কর্মীদের মাঝে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।

এএইচ